ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও বিশ্বজয়ের লড়াই: ফাইনালের আগে দিদি-জামাইবাবুকে হারিয়েও মাঠে নামেন ঈশান

ফাইনালের আগে দিদি-জামাইবাবুকে হারিয়েও মাঠে নামেন ঈশান! টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন আর উত্তেজনার মুহূর্ত। কিন্তু সেই বড় ম্যাচে নামার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে এক হৃদয়বিদারক…

March 9, 2026
1 min read

ফাইনালের আগে দিদি-জামাইবাবুকে হারিয়েও মাঠে নামেন ঈশান!

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন আর উত্তেজনার মুহূর্ত। কিন্তু সেই বড় ম্যাচে নামার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে এক হৃদয়বিদারক খবর পান ভারতীয় ক্রিকেটার Ishan Kishan। এক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তাঁর তুতো দিদি এবং দিদির স্বামী। গভীর ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেই তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়—দেশের হয়ে ফাইনাল খেলবেন, নাকি বাড়ি ফিরে পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন।

শেষ পর্যন্ত দেশের দায়িত্বকেই অগ্রাধিকার দেন ঈশান। শোক সামলেও তিনি মাঠে নামেন এবং ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ফাইনালের দুই দিন আগে। খবরটি পৌঁছানোর পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েন ঈশান ও তাঁর পরিবার। এতটাই মর্মান্তিক ছিল পরিস্থিতি যে, তাঁর বাবা Pranav Pandey-ও আহমেদাবাদে গিয়ে ছেলের খেলা দেখতে পারেননি।

ঈশানের বাবা পরে বলেন, “খুবই খারাপ ঘটনা ঘটেছে। আমরা সবাই খুব দুঃখে আছি। আমি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যেতে পারছি না। ঈশানও বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল, কিন্তু দেশের হয়ে ফাইনাল খেলার কথা ভেবে সে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলেছে। ওর মনও খুব ভাল নেই।”

ফাইনালের আগে অনুশীলনের সময়ও সতীর্থরা লক্ষ্য করেছিলেন ঈশানের মনখারাপ। সাধারণত তিনি মাঠে খুব প্রাণবন্ত থাকেন—মজা করেন, সতীর্থদের সঙ্গে খুনসুটি করেন। কিন্তু সেই দিন অনুশীলনে তাঁকে বেশ চুপচাপ দেখাচ্ছিল। ব্যাটিং প্র্যাকটিস শেষ হওয়ার পর দলের কয়েকজন ক্রিকেটার এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এবং পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই যেন বদলে গেল দৃশ্য। ব্যক্তিগত দুঃখকে একপাশে রেখে পুরো মনোযোগ দিলেন খেলায়। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। মাত্র ২৫ বলে তিনি করেন ৫৪ রান, যার মধ্যে ছিল চারটি চার এবং চারটি ছক্কা। তাঁর সেই ঝড়ো ইনিংস ভারতের ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয়।

শুধু ব্যাটিং নয়, ফিল্ডিংয়েও নজর কেড়েছেন ঈশান। ম্যাচে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ধরেন—Tim Seifert, Rachin Ravindra এবং Daryl Mitchell-এর ক্যাচ। এই তিনটি ক্যাচই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই সুযোগগুলো যদি হাতছাড়া হত, তাহলে হয়তো New Zealand national cricket team আরও লড়াই করার সুযোগ পেত।

এই বিশ্বকাপেই আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার Rinku Singh-ও ব্যক্তিগত শোকের মুখোমুখি হয়েছিলেন। টুর্নামেন্ট চলাকালীন তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। শেষকৃত্যে যোগ দিয়ে আবার দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। দেশের জন্য দায়িত্ববোধের সেই উদাহরণ প্রশংসিত হয়েছিল সর্বত্র।

ঈশানের ঘটনাও অনেকটা সেই রকমই। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোক সত্ত্বেও তিনি দেশের হয়ে খেলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স শুধু দলের জয়েই সাহায্য করেনি, অনেকের কাছে তা এক অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার উদাহরণ হয়ে থেকেছে।

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের আড়ালেও তাই লুকিয়ে রইল এক ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত যন্ত্রণা—যা হয়তো মাঠে বোঝা যায়নি, কিন্তু তাঁর লড়াইকে আরও বড় করে তুলেছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *