যাত্রী সুরক্ষায় আরও এক ধাপ এগোল মেট্রো!
কলকাতা মেট্রোয় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। বিশেষ করে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়তে থাকায় বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রিন লাইনের ‘প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর’ যাতে ঠিকমতো কাজ করে এবং কোনও ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামত করা যায়— সে দিকেই জোর দিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত গ্রিন লাইনের প্রতিটি স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর বসানো রয়েছে। এই দরজাগুলির রক্ষণাবেক্ষণ আরও মজবুত করতে এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ চালু করল একটি বিশেষ ‘মডেল রুম’। বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল পার্ক ডিপো কমপ্লেক্সে এই মডেল রুমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোরেলের জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু এস. মিশ্র সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। মেট্রো সূত্রে জানানো হয়েছে, এই মডেল রুম মূলত মেট্রোকর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হবে। প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর কী ভাবে কাজ করে, তার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কী ভাবে করা উচিত এবং হঠাৎ কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়লে কী ভাবে দ্রুত তা ঠিক করা সম্ভব— সবই শেখানো হবে হাতে-কলমে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্ক্রিন ডোরে সামান্য সমস্যা হলেও তা দ্রুত সারাতে পারা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিষেবার স্বাভাবিক গতি। এই প্রশিক্ষণের ফলে কর্মীরা বাস্তব পরিস্থিতিতে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন বলেই আশা কর্তৃপক্ষের।
সম্প্রতি চলন্ত মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে, বিশেষ করে ব্লু লাইনে— শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর রুটে। এই প্রবণতা রুখতে যাত্রী সচেতনতা বৃদ্ধি, নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছে মেট্রো। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর থাকলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তবে মেট্রো কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ব্লু লাইন পুরনো প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় সেখানে স্ক্রিন ডোর বসানো প্রযুক্তিগত ভাবে সম্ভব নয়। সেই কারণেই গ্রিন লাইনে এই ব্যবস্থা কার্যকর ভাবে রূপায়ণ করা হয়েছে এবং এখন তার রক্ষণাবেক্ষণ আরও শক্তপোক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মেট্রো যাত্রীদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা থাকলে পরিষেবা যেমন মসৃণ হবে, তেমনই যাত্রী নিরাপত্তাও আরও নিশ্চিত করা যাবে। সব মিলিয়ে, শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে গ্রিন লাইনের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকেই।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই