কাঁধ থেকে হাঁটু!
অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে কাজ, সংসারের খুঁটিনাটিতে বারবার নিচু হওয়া, কিংবা খেলাধুলার সময় হঠাৎ পাওয়া চোট— আজকের জীবনযাত্রায় হাড় ও জয়েন্টের ব্যথা আর বয়স মানে না। আট বছরের শিশু থেকে আশি বছরের প্রবীণ— সবাই কোনও না কোনও সময়ে এই সমস্যায় ভোগেন। ব্যথা যখন নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে, তখন স্বাভাবিক জীবনযাপনও হয়ে পড়ে কঠিন।
এই ক্রমবর্ধমান সমস্যার সমাধান খুঁজতেই আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় বসেছিলেন মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুরের তিন জন অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ— চিকিৎসক সুতনু হাজরা, বিশাল ভগৎ এবং সৌভিক পাল। আধুনিক চিকিৎসা, প্রযুক্তির উন্নতি ও রোগীদের সচেতনতা— এই তিনের মেলবন্ধনে কী ভাবে হাড়ের ব্যথা থেকে মুক্তি সম্ভব, তা নিয়েই ছিল এই আলোচনা।
চিকিৎসক সুতনু হাজরা জানান, হিপ বা নিতম্ব প্রতিস্থাপন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখনও ভয় কাজ করে— বিশেষ করে ইমপ্লান্ট কত দিন টিকবে, তা নিয়ে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ভয় অনেকটাই অমূলক। বর্তমানে ব্যবহৃত উন্নত মানের ইমপ্লান্ট প্রায় সারাজীবন কার্যকর থাকে। তার উপর রোবোটিক প্রযুক্তির সাহায্যে অস্ত্রোপচার এখন অনেক বেশি নিখুঁত ও নিরাপদ। ফলে অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হচ্ছে।
হাঁটুর ব্যথা ও হাঁটু প্রতিস্থাপন নিয়েও রয়েছে নানা ভ্রান্ত ধারণা। বিশেষ করে কম বয়সে হাঁটু প্রতিস্থাপন করলে তা তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে— এই আশঙ্কায় অনেকেই চিকিৎসা পিছিয়ে দেন। এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক বিশাল ভগৎ স্পষ্ট করে বলেন, আধুনিক হাঁটু ইমপ্লান্ট অনায়াসেই ২০ থেকে ২৫ বছর, এমনকি তারও বেশি সময় ভালো থাকে। তাই বয়সের কথা ভেবে অকারণে যন্ত্রণা সহ্য করার কোনও কারণ নেই।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঁধের ব্যথা বা ‘ফ্রোজ়েন শোল্ডার’ও অনেকের দৈনন্দিন জীবনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসক সৌভিক পাল জানান, বয়স্কদের ক্ষেত্রে মূলত তিন ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়— ফ্রোজ়েন শোল্ডার, রোটেটর কাফ টিয়ার এবং কাঁধের আর্থ্রাইটিস। তবে আশার কথা হল, সব ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না। সঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়লে ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি ও ওষুধেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। আর যখন অবস্থা জটিল হয়ে ওঠে, তখন আধুনিক পদ্ধতি যেমন আর্থোপ্লাস্টি বা রিভার্স শোল্ডার আর্থোপ্লাস্টি রোগীকে আবার স্বাভাবিক চলাফেরায় ফিরিয়ে আনতে দারুণ কার্যকর।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের বার্তা একটাই— হাড়ের ব্যথাকে অবহেলা নয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আজ ব্যথামুক্ত, সক্রিয় জীবনে ফেরা আগের চেয়ে অনেক সহজ। ব্যথাকে সহ্য করে নয়, জেনে-বুঝে তার সমাধানেই রয়েছে সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই