বনগাঁর মিমিকাণ্ডে কড়া অবস্থান আদালতের!
বনগাঁয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর ‘হেনস্থা’ সংক্রান্ত মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেন না অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া আরও দু’জন। মঙ্গলবার ফের বনগাঁ আদালতে তোলা হলে, দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—এই মুহূর্তে জামিন নয়। বিচারকের নির্দেশে অভিযুক্ত তিনজনকে আরও চার দিন জেল হেফাজতে থাকতে হবে।
এ দিন আদালতে তনয় শাস্ত্রী-সহ তিন অভিযুক্তকে হাজির করে বনগাঁ থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের ফের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। অন্য দিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবী জামিনের জন্য আবেদন করেন। সরকারি পক্ষ এবং মিমি চক্রবর্তীর আইনজীবী দু’জনেই তনয়ের বিরুদ্ধে টানা সওয়াল চালান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সন্ধ্যায় বিচারক রায় ঘোষণা করেন।
আদালত এক দিকে যেমন অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন খারিজ করেছে, তেমনই পুলিশি হেফাজতের আবেদনও নাকচ করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, তনয় শাস্ত্রী-সহ তিনজনকে আপাতত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁদের ফের আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত গত ২৬ জানুয়ারি। সেদিন বনগাঁর গোপালগঞ্জ এলাকায় একটি মঞ্চানুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন তনয় শাস্ত্রী তাঁকে ‘অভদ্রভাবে’ মঞ্চ ছেড়ে চলে যেতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে তৎক্ষণাৎ চুপ না থেকে পরে স্থানীয় থানায় ই-মেলের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অভিনেত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিমির সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতে গেলে, তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগেই শেষ পর্যন্ত গত ৩০ জানুয়ারি নিজের বাড়ি থেকেই তনয়-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার আদালতে তোলা হলে তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবারের শুনানিতে সেই জেল হেফাজতের মেয়াদ আরও বাড়ল। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মামলার তদন্ত এখনও সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে জামিন দিলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে—এই যুক্তিতেই অভিযুক্তদের মুক্তির আবেদন খারিজ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর।
এ দিকে, গোটা ঘটনা ঘিরে মিমি চক্রবর্তী আগেও প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কখনও সামাজিক মাধ্যমে, কখনও সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, কী ভাবে অনুষ্ঠান মাঝপথে থামিয়ে তাঁকে চলে যেতে বলা হয়েছিল। বনগাঁর এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতেও কম জলঘোলা হয়নি।
সব মিলিয়ে, বনগাঁর মিমিকাণ্ডে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন মোড় এনে দিল বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। আগামী শুনানিতে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযুক্তদের ভাগ্যে কী লেখা আছে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে সকলের নজর।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই