বিদেশে পরিবার মানেই ঝুঁকি? চিনে ‘নগ্ন কর্মকর্তা’দের বিরুদ্ধে শি জিনপিং সরকারের কড়া বার্তা

চিনে ‘নগ্ন কর্মকর্তা’দের বিরুদ্ধে শি জিনপিং! সরকারের ঘনিষ্ঠ হলেও রেয়াত নেই—চিনে এখন এটাই বাস্তবতা। গত বছর জুড়ে একের পর এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ আধিকারিক এমনকি আইনসভার সদস্যদেরও পদ…

January 29, 2026
1 min read

চিনে ‘নগ্ন কর্মকর্তা’দের বিরুদ্ধে শি জিনপিং!

সরকারের ঘনিষ্ঠ হলেও রেয়াত নেই—চিনে এখন এটাই বাস্তবতা। গত বছর জুড়ে একের পর এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ আধিকারিক এমনকি আইনসভার সদস্যদেরও পদ থেকে সরানো হয়েছে বা পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে। কারণ একটাই—তাঁরা ‘নেকেড অফিসিয়াল’, অর্থাৎ যাঁদের স্ত্রী বা সন্তান বিদেশে থাকেন।

আমেরিকাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘দ্য জেমসটাউন ফাউন্ডেশন’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বেজিং প্রশাসন পরিকল্পিত ভাবে এমন আধিকারিকদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। শাস্তিমূলক তদন্ত নয়, বরং নীরব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—পদ কাটা, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব না দেওয়া বা ভবিষ্যতে পদোন্নতির রাস্তা বন্ধ করে দেওয়াই ছিল মূল অস্ত্র।

চিনে ‘নগ্ন কর্মকর্তা’ শব্দবন্ধটি নতুন নয়। বহু দিন ধরেই এমন আধিকারিকদের বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার হয়, যাঁরা নিজেরা চিনে কাজ করলেও পরিবার বিদেশে থাকে। এক সময় এই বিদেশি যোগসূত্রকে সম্পদ হিসেবেই দেখত বেজিং। পশ্চিমের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ আন্তর্জাতিক মঞ্চে চিনের অবস্থান মজবুত করেছিল। কিন্তু সেই নীতিতেই এবার বড়সড় বদল।

২০২৫ সালের নভেম্বরে কমিউনিস্ট পার্টি ঘোষণা করে, ২০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁদের নেতৃত্বের ভূমিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। যদিও তাঁরা পার্টির সদস্যই থাকছেন। এর পরেই স্পষ্ট হয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিদেশি চাপের কথা মাথায় রেখেই ‘নগ্ন কর্মকর্তা’দের প্রতি শূন্য সহনশীলতার নীতি নিয়েছে শি জিনপিং সরকার।

এই তালিকায় রয়েছেন পিপলস ব্যাঙ্ক অফ চায়নার প্রাক্তন গভর্নর ই গ্যাং, সাংহাইয়ের ভাইস মেয়র লিউ ডুও, বেজিং মিউনিসিপ্যাল কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়ান আওশুয়াং, রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতি লিন শাংলি-সহ একাধিক পরিচিত নাম। লক্ষণীয় বিষয়, এঁদের অনেকেই সরকারের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবু পরিবার বিদেশে থাকার ‘অপরাধে’ তাঁদের রেহাই মেলেনি।

আসলে শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নির্দেশ ছিল স্পষ্ট—সংবেদনশীল প্রশাসনিক, কূটনৈতিক বা সামরিক পদে থাকলে পরিবারকে চিনে ফিরিয়ে আনতেই হবে। না হলে পদ ছাড়তে হবে। প্রথম দিকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন সেই সহনশীলতার সময়ও শেষ।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে বেজিং বার্তা দিতে চাইছে—জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ব্যক্তিগত যোগসূত্রের কোনও মূল্য নেই। ফলে প্রশাসনের অন্দরমহলে এখন চাপা উদ্বেগ। অনেক আধিকারিকই ইতিমধ্যে পরিবারকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন। চিনের শাসনব্যবস্থায় ‘নগ্ন কর্মকর্তা’ শব্দটি এখন আর শুধু পরিচয় নয়, হয়ে উঠেছে এক বড় ঝুঁকির নাম।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *