‘স্টার্টআপ কার্নিভাল ৫’!
বাংলার স্টার্টআপ মানেই শুধু আইডিয়া নয়— তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সংস্কৃতি, দায়িত্ব আর দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন। সেই ভাবনাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল ‘স্টার্টআপ কার্নিভাল ৫’, আয়োজনে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ। এই কার্নিভাল যেন এক দিনের অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলার উদ্যোক্তা মানসিকতার একটি শক্ত ভিত তৈরি করার প্রয়াস।
জিসিআইআই, ফুডকা, বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিল, পয়েন্টার্স বিজনেস ফোরাম, ওয়েলথঅ্যাপ, এএসএমআই বিজনেস স্কুল এবং ডি২সি ইনসাইডারের মতো একাধিক ইকোসিস্টেম পার্টনারের সহযোগিতায় এই কার্নিভালে এক ছাদের তলায় মিলিত হয়েছিলেন প্রতিষ্ঠাতা, ছাত্রছাত্রী, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও শিল্প জগতের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সহ-সভাপতি ও সহ-চ্যান্সেলর মানসী রায় চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল একটাই বার্তা— স্টার্টআপ কার্নিভাল কোনও এক দিনের উৎসব নয়, এটি একটি আন্দোলন। তিনি বলেন, “কলকাতাকে শুধু স্মৃতির শহর হিসেবে নয়, বরং উদ্যোগ ও কল্পনার জীবন্ত শক্তিকেন্দ্র হিসেবে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।”
এই ভাবনারই বাস্তব প্রতিফলন পাওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার দাসের বক্তব্যে। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নীতির ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুযোগের সঙ্গে দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখলেই সরকার ও উদ্যোক্তার সম্পর্ক প্রকৃত অর্থে সহযোগিতামূলক হয়। ডেটা সেন্টার, এআই পরিকাঠামো এবং খরচ কমানোর নানা সরকারি উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
প্রথম প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে এক অনন্য বিষয়— “৭০,০০০ কোটি টাকার সুযোগ: দুর্গাপুজো ও বাংলা স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম।” আলোচনায় দুর্গাপুজোকে শুধুমাত্র উৎসব নয়, বরং একটি বিশাল অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইকোসিস্টেম হিসেবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা দেখান কী ভাবে স্টার্টআপরা ব্যবসার পাশাপাশি কমিউনিটি ও সংস্কৃতির প্রতি সংবেদনশীল থেকেও পুজোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
দ্বিতীয় প্যানেলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল খাদ্য উদ্যোগ। “বিল্ট টু টেস্ট” শীর্ষক আলোচনায় রেস্তোরাঁ ব্যবসার বাস্তব দিক— খরচ, লাভ, সাপ্লাই চেন, গ্রাহকের বিশ্বাস এবং ব্র্যান্ড তৈরির দীর্ঘ পথ— সব কিছুই উঠে আসে খোলামেলা ভাবে।
এরপর ফায়ারসাইড চ্যাটে শেফ সোহিনী বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইন্দ্রজিৎ লাহিরি জানান, নিজস্বতা ও সততা ছাড়া কোনও খাদ্য উদ্যোগই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত আসে স্টার্টআপ পিচ ম্যারাথনে। ১৮টি স্টার্টআপ তাঁদের আইডিয়া তুলে ধরেন বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের সামনে। কঠিন প্রতিযোগিতার শেষে Quekey.io প্রথম, LovethyNature দ্বিতীয় এবং GreenMentor তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
‘স্টার্টআপ কার্নিভাল ৫’ শেষ হয় এক আশাবাদী বার্তা দিয়ে— চিন্তাশীল উদ্যোগ, বাস্তব পরিকল্পনা আর দৃঢ় উচ্চাকাঙ্ক্ষাই তৈরি করবে কলকাতার স্টার্টআপ ভবিষ্যৎ। আর সেই ভবিষ্যৎ যে আগের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল, তার ইঙ্গিত এই কার্নিভালেই স্পষ্ট।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা