শীতে জল খেতে ইচ্ছে না?!
শরীর ভাল রাখতে জল যে কতটা জরুরি, তা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু শীত এলেই সেই জ্ঞান যেন আচরণে ধরা পড়ে না। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঘাম কম হয়, তেষ্টা পায় কম, ফলে অজান্তেই শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হয়। অথচ এই জলই কিডনির সবচেয়ে বড় বন্ধু। পর্যাপ্ত জল না পেলে কিডনি ঠিকমতো তার কাজ— অর্থাৎ রক্ত ছেঁকে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেওয়া— করতে পারে না। ধীরে ধীরে জমে যেতে পারে টক্সিন, বাড়তে পারে সংক্রমণ বা পাথরের ঝুঁকিও।
যাঁদের শীতে বার বার জল খেতে ভাল লাগে না, তাঁদের জন্য সুখবর আছে। শুধু ঠান্ডা জল নয়, উষ্ণ কিছু পানীয়ের সাহায্যেও শরীরকে হাইড্রেট রাখা যায়। নিয়ম করে এই পানীয়গুলিতে চুমুক দিলে কিডনি ভাল থাকবে, সঙ্গে মিলবে আরও নানা উপকার।
১. জিরের উষ্ণ জল
জিরে ফোটানো জল শুধু হজমের জন্যই ভাল নয়, কিডনির পক্ষেও দারুণ উপকারী। জিরেতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা কিডনির কোষগুলিকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি পেটফাঁপা, গ্যাসের মতো সমস্যাও কমে। এক গ্লাস জলে আধ চামচ জিরে ফোটান, হালকা উষ্ণ অবস্থায় পান করুন। দিনে এক থেকে দু’কাপই যথেষ্ট।
২. তুলসী ফোটানো জল বা তুলসী চা
তুলসীর গুণের কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এতে রয়েছে প্রদাহনাশক ও অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান, যা কিডনির সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তুলসীর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কিডনিকে সক্রিয় রাখে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য বের করতে সহায়তা করে। এক কাপ জলে ৩–৪টি তুলসী পাতা ফুটিয়ে নিন। মনে রাখবেন, এটি চা হলেও এতে চা পাতা বা দুধ ব্যবহার করবেন না।
৩. ভেষজ চা (আদা বা ক্যামোমাইল)
আদা ফোটানো জল বা ক্যামোমাইল চা শীতে শরীর গরম রাখার পাশাপাশি কিডনির জন্যও উপকারী। এই ভেষজ চায়ে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কিডনির প্রদাহ কমায় এবং তার কর্মক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত খেলে কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে। ভারী বা তেল-মশলাদার খাবারের পর এই ধরনের চা শরীরকে হালকা রাখতেও সাহায্য করে।
শীতে জল কম খাওয়া খুব স্বাভাবিক সমস্যা। তবে কিডনির কথা ভেবে এই অভ্যাস বদলানো জরুরি। ঠান্ডা জল যদি ভাল না লাগে, তা হলে এই উষ্ণ পানীয়গুলিকেই দৈনন্দিন রুটিনে জায়গা দিন। ছোট ছোট চুমুকেই শরীর পাবে প্রয়োজনীয় জল, আর কিডনিও থাকবে সুস্থ ও কর্মক্ষম।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি