এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা: ‘ভুল তালিকা, ভুল পদ্ধতি— মানুষই সবচেয়ে বেশি ভুগছে’

এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তাঁর অভিযোগ— এই প্রক্রিয়ায় চরম গাফিলতি…

January 7, 2026
1 min read

এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তাঁর অভিযোগ— এই প্রক্রিয়ায় চরম গাফিলতি হচ্ছে, যার মাশুল দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, কমিশনের বিরুদ্ধে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপির আইটি সেলকে দিয়ে একটি অ্যাপ তৈরি করানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক।

মঙ্গলবার গঙ্গাসাগর সফর সেরে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেই এসআইআর প্রসঙ্গ তোলেন মমতা। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন ভুলভাল কাজ করছে। জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদের নাকে নল পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর উপর আবার বিজেপির আইটি সেলকে দিয়ে অ্যাপ বানানো হয়েছে। এগুলো সবই অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিক।”

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে যেভাবে তথ্য যাচাই হচ্ছে, তাতে মানুষের সম্মান ও অধিকার— দু’টিই ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাঁর মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল কাজে এমন ত্রুটি বা পক্ষপাতিত্ব কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এই প্রথম নয়। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তিন দফা চিঠি লিখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার গঙ্গাসাগর থেকেই তিনি জানিয়েছিলেন, এই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে। শুধু দল হিসেবে নয়, প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ভাবেও তিনি সাধারণ মানুষের হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন বলে জানান।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমরাও আইনের সাহায্য নিচ্ছি। আদালত খুললেই সেখানে যাব। এত মানুষের নাম কাটা যাচ্ছে, যেভাবে তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়াই একমাত্র রাস্তা।” এখানেই থামেননি তিনি। আরও বলেন, “প্রয়োজন হলে আমি নিজেও সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মানুষের হয়ে কথা বলব। আমি আইনজীবী— কিন্তু সেখানে আইনজীবী হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে দাঁড়াব। অনুমতি নিয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাব, তৃণমূল স্তরে কী চলছে, মানুষকে কী ভাবে ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।”

মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, এই লড়াই শুধুই রাজনৈতিক নয়, বরং নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন। তাঁর আশঙ্কা, ভোটার তালিকার মতো মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যদি বিশ্বাস নষ্ট হয়, তা হলে তার প্রভাব পড়বে পুরো ব্যবস্থার উপরেই।

এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলির কী জবাব দেয় এবং আদালতের দরজায় পৌঁছলে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়। তবে আপাতত এসআইআর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যে উত্তাপ বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *