আইএসএল ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাব!
নতুন বছর এলেও ভারতীয় ফুটবলের আকাশে মেঘ কাটেনি। দেশের প্রধান ফুটবল লিগ Indian Super League (আইএসএল) আদৌ কবে এবং কী ভাবে শুরু হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন বা All India Football Federation (এআইএফএফ) যে প্রস্তাব ক্লাবগুলির সামনে রেখেছিল, তাতে স্পষ্ট ‘না’ বলেছে বেশির ভাগ দল। ফলে আইএসএলের ভবিষ্যৎ আপাতত সেই অনিশ্চয়তার তিমিরেই রয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার এআইএফএফ-কে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছেন স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির সিইও ধ্রুব সুদ। জামশেদপুর এফসি বাদে আইএসএলের বাকি ১৩টি ক্লাবের তরফে লেখা এই চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—বর্তমান প্রস্তাবে তারা রাজি নয়। ক্লাবগুলির মূল আপত্তি অর্থনৈতিক। অতিরিক্ত ফি দিয়ে আইএসএল খেলতে তারা প্রস্তুত নয় বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে দলগুলি।
চিঠিতে ক্লাবগুলির বক্তব্য, আইএসএল আয়োজন করতে হলে আগে কয়েকটি মৌলিক বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—লিগের কমার্শিয়াল পার্টনার কে হবেন? ম্যাচ সম্প্রচার হবে কোন প্ল্যাটফর্মে? এই বিষয়গুলি চূড়ান্ত না হলে ক্লাবগুলির পক্ষে মাঠে নামা কঠিন। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে লিগ খেলতে গেলে প্রতিটি ক্লাবকে অতিরিক্ত ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা খরচ করতে হতে পারে, যা তারা বহন করতে চাইছে না।
যদিও কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে আইএসএল হবেই, তবু বাস্তবে সমস্যার জট এখনও খুলছে না। এআইএফএফ কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে ঠিকই, কিন্তু কেরল ব্লাস্টার্স, মুম্বই সিটি এফসি বা ওড়িশা এফসির মতো বড় ক্লাব আদৌ আইএসএলে অংশ নিতে চায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মূল সমস্যা একটাই—টাকা। সেই আর্থিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কথাবার্তা যে চিঠির মধ্যেই ঘুরপাক খাবে, সেটাই এখন স্পষ্ট।
ক্লাবগুলি অবশ্য পুরোপুরি আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি। চিঠিতে জানানো হয়েছে, ফেডারেশন চাইলে ৩ জানুয়ারি ফের বৈঠকে বসতে তারা প্রস্তুত। তবে শর্ত একটাই—আগে স্পষ্ট রোডম্যাপ চাই। কে কী দায়িত্ব নেবে, কী ভাবে লিগ চলবে, সব কিছু পরিষ্কার না হলে সম্মতি দেওয়া হবে না।
এর আগে আইএসএল ক্লাবগুলি এআইএফএফ-এর তিন সদস্যের কমিটির কাছেও প্রশ্ন তুলেছিল—লিগে কতগুলি ম্যাচ খেললে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) কাপে জায়গা পাওয়া যাবে? ফেডারেশন সেই প্রশ্ন এএফসি-কে জানালেও, উল্টে এএফসি লিখিত ভাবে লিগের ফরম্যাট ও ম্যাচসংখ্যা জানতে চেয়েছে। সেই জবাব এখনও দিতে পারেনি এআইএফএফ। তার মধ্যেই ক্লাবগুলির এই নতুন চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, নতুন বছরের শুরুতেও আইএসএলের ভাগ্য ঝুলে রইল আলোচনার দড়িতে। সমাধান মিলবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কথাবার্তার উপর। আপাতত ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা শুধু অপেক্ষাই করতে পারেন।