যুবরাজ ও হরমনকে একসঙ্গে সম্মান জানাল মুল্লানপুর স্টেডিয়াম
ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে এক জন পুরুষ এবং এক জন মহিলা ক্রিকেটার একই মঞ্চে সমান মর্যাদায় সম্মানিত হচ্ছেন—এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুল্লানপুরের মহারাজা যাদবিন্দর সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেখা গেল সেই বিরল মুহূর্ত। ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ঠিক আগে রাজ্যের দুই গর্ব, যুবরাজ সিংহ এবং হরমনপ্রীত কৌর–এর নামে বিশেষ স্ট্যান্ডের উদ্বোধন করল পঞ্জাব সরকার।
পঞ্জাবের গর্ব বহু। কিন্তু ক্রিকেটের মাটিতে যুবরাজ ও হরমনপ্রীতের অবদান অনন্য। তাই তাদের নামে স্টেডিয়ামের স্ট্যান্ড তৈরি হওয়াকে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ—সবাই কুর্নিশ জানাচ্ছেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান দুই তারকাকে।
হরমনপ্রীতের বিশ্বকাপ জয়—স্বীকৃতি পেল নিজের ঘরের মাঠেই
গত মাসেই ভারতের মহিলাদের দল প্রথমবারের মতো এক দিনের বিশ্বকাপ জয় করে ইতিহাস গড়েছে। সেই অভিযানের ক্যাপ্টেন ছিলেন হরমনপ্রীত কৌর। তাঁর নেতৃত্ব, ব্যাটিং এবং মাঠে দৃঢ়তা দলকে এনে দেয় মহামূল্যবান ট্রফি। সেই গৌরবের স্বীকৃতি দিতে নিজের রাজ্যেই তাঁর নামে তৈরি হল একটি স্ট্যান্ড।
এ দিন অনুষ্ঠানে হরমনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী দলের দুই সদস্য—হার্লিন দেওল এবং আমনজ্যোত কৌর। এই তিন ক্রিকেটারকে পঞ্জাব সরকার প্রত্যেককে ১১ লক্ষ টাকা করে পুরস্কৃত করেছে। দলের ফিল্ডিং কোচ মুনিশ বালি পেয়েছেন ৫ লক্ষ টাকা।
যুবরাজ—পঞ্জাবের চিরকালীন নায়ক
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে ম্যাচ জেতানোর প্রতীক ছিলেন যুবরাজ সিংহ। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আজও কিংবদন্তি। ভারতের শিরোপাজয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন তিনি। সেই কারণেই নিজের রাজ্যের স্টেডিয়ামের এক গ্যালারি তাঁর নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।
যুবরাজের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকাসনে চিৎকারে ফেটে পড়ে সমর্থকেরা। পঞ্জাবের মানুষ আজও তাঁকে ‘পঞ্জাব দা শের’ বলেই ডাকেন। বৃহস্পতিবার সেই অভিবাদনের আরও এক নতুন অধ্যায় তৈরি হল।
উদ্বোধনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান, উপস্থিত বিসিসিআই সভাপতিও
এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। তিনি দুই তারকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন,
“যুবরাজ ও হরমনপ্রীত শুধু পঞ্জাব নয়, গোটা দেশের গর্ব। নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য ওঁরা প্রেরণা।”
বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন,
“এ রকম উদ্যোগ ভারতীয় ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করে। রাজ্যের উদ্যোগে খেলোয়াড়দের মর্যাদা বাড়ে।”
পঞ্জাবে ক্রিকেটের উৎসবমুখর দিন
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে এমন অনুষ্ঠান হওয়ায় স্টেডিয়ামের আবহ ছিল উচ্ছ্বসিত। হাজার হাজার দর্শকের সামনে ভারতের দুই সেরা ক্রিকেটারকে একসঙ্গে সম্মানিত করা নিঃসন্দেহে পঞ্জাবের ক্রীড়া ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একদিকে বিশ্বকাপজয়ী নারী দলনেত্রী, অন্যদিকে ভারতের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন—দু’জনকে একই মঞ্চে সম্মান জানানো সত্যিই এক আবেগঘন মুহূর্ত।