‘ধুরন্ধর’-এ সাফল্যের ঝলক
বলিউডে যেন বর্তমানে এক অদৃশ্য সোনার হাতছানি—যা ছুঁলেই জনপ্রিয়তা, ভাইরালিটি ও প্রশংসা মিলছে এক তরুণী গায়িকার। কলকাতার মধুবন্তী বাগচীকে এখন অনায়াসেই বলা হচ্ছে হিন্দি ছবির নতুন ‘হিট মেশিন’। ‘আজ কি রাত’ এবং ‘উই আম্মা’-র মতো গানে মাত করার পর বছরশেষে এসেছে তাঁর গাওয়া ‘ধুরন্ধর’ ছবির গান ‘শরারত’—যা মুক্তি পেয়েই ভেসে যাচ্ছে ভাইরালের স্রোতে। শুধু গানেই নয়, এবার প্রথমবার বড়পর্দায় দেখা মিলেছে তাঁর। ফলে অনুরাগীদের প্রশ্ন—তাহলে কি এখন অভিনয়েও পা রাখছেন মধুবন্তী?
‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পর চারদিকে যেভাবে উন্মাদনা, তাতে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, মধুবন্তী এবার হয়তো অভিনয়ের ক্ষেত্রেও নিজের দখল জমাতে চলেছেন। তবে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এই ধারণা সরাসরি উড়িয়ে দিলেন গায়িকা।
তিনি জানালেন, ‘‘আমি গাইতে ভালবাসি। সিনেমায় অভিনয় করা বা নাচ—এসবের প্রতি আলাদা আকর্ষণ নেই। মঞ্চে আমি যেভাবে গান করি, সেটাই আমার নিজের জায়গা। অভিনয় আমাকে টানে না।’’
🎤 ‘ধুরন্ধর’-এ কেন অভিনয় করলেন?
মধুবন্তীর কথায়, প্রথমে তিনি অভিনয়ের প্রস্তাবই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ছবির সুরকার শাশ্বত সচদেব ও পরিচালক আদিত্য ধরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় রয়েছে ‘উরি’-র সময় থেকে। যখন তাঁরা তাঁর কাছে ‘শরারত’ গানের দৃশ্যে উপস্থিতির অনুরোধ করেন, গায়িকা দ্বিধায় পড়ে যান।
তিনি বলেন,
“এত তারকা আর এত মানুষের মাঝে আমি কোথায় মানাবে! আমি তো অভিনয় করি না, নাচতেও চাই না। তাই প্রথমে ‘না’ বলেছিলাম।”
তবে সহ–গায়িকা জ্যাসমিন স্যান্ডল্সের উৎসাহ আর পরিচালকের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত রাজি হন তিনি। আদিত্য তাঁকে নিশ্চিন্ত করেছিলেন, ‘‘কোনও নাচ নয়, কোনও অভিনয় নয়—শুধু তোমার স্বাভাবিক উপস্থিতিই যথেষ্ট।’’
এই আস্থাই তাঁকে সাহস দিয়েছে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে।
⭐ রণবীর সিংহের প্রশংসা—মধুবন্তীর জীবনের বিশেষ মুহূর্ত
রণবীর সিংহের সম্পর্কে তাঁর মুগ্ধতা নতুন নয়। ‘লেডিস ভার্সেস রিকি বহেল’-এর সময় থেকেই অভিনেতার অনুরাগী তিনি। স্বভাবতই, রণবীরের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসা তাঁর কাছে অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
মধুবন্তী বলেন,
“মিউজ়িক লঞ্চের দিন রণবীর আমাকে দেখে বলেন—‘তোমাকে দারুণ লাগছে, ফারু লাগছে!’ গান শুনে বললেন, ‘তোমরা অসাধারণ গেয়েছ।’ এই কথাগুলো আমার জন্য পুরস্কারের মতো।”
🎶 হিটের পর হিট—কিন্তু পথটা সহজ ছিল না
বলিউডে জায়গা করতে অন্তত ৭–৮ বছরের কঠোর পরিশ্রম লাগে, মনে করেন মধুবন্তী। তাঁর মতে, রাতারাতি সাফল্য পাওয়া মানে সেটা খুব দ্রুত হারিয়ে ফেলা। সাফল্য ধীরে-ধীরে এসেছে বলেই তার মর্যাদা তিনি বোঝেন।
তিনি স্পষ্ট বলেন—
“মুম্বইয়ে কাজ করতে গেলে ভরসা অর্জন করতে হয়। কেউ হঠাৎ এসে বড় সুযোগ দিয়ে দেবে—এটা ভাবা ভুল।”
গায়িকা চান নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে, জনপ্রিয়তার মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া চকচকে দুনিয়ার দৌড় নয়।