রোগ নেই অথচ শরীর জুড়ে ক্লান্তি! ‘ক্রনিক ফেটিগ সিনড্রোম’ শনাক্তে আশার আলো নতুন রক্ত পরীক্ষায়

রোগ নেই অথচ শরীর জুড়ে ক্লান্তি! শরীরে কোনও রোগ নেই, তবু দিনভর অজানা ক্লান্তি! ঘুম, বিশ্রাম—কিছুতেই কাজ হয় না। মনও ভারী হয়ে আসে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই জটিল উপসর্গের নাম ‘ক্রনিক…

October 12, 2025
1 min read

রোগ নেই অথচ শরীর জুড়ে ক্লান্তি!

শরীরে কোনও রোগ নেই, তবু দিনভর অজানা ক্লান্তি! ঘুম, বিশ্রাম—কিছুতেই কাজ হয় না। মনও ভারী হয়ে আসে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই জটিল উপসর্গের নাম ‘ক্রনিক ফেটিগ সিনড্রোম’ (CFS)। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই সমস্যার প্রকোপ আরও বেড়েছে। এবার আশার আলো দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা—নতুন এক রক্ত পরীক্ষায় এই রোগ ধরা পড়তে পারে!


🧠 ‘ক্রনিক ফেটিগ সিনড্রোম’ কী?

‘ক্রনিক ফেটিগ সিনড্রোম’ এমন এক দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিজনিত ব্যাধি, যার কোনও সহজ নির্ণয় নেই। রোগী যতই বিশ্রাম নিন না কেন, শরীর-মন তার সতেজতা ফিরে পায় না। এতে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায়।

উপসর্গব্যাখ্যা
অবিরাম ক্লান্তিবিশ্রামেও শক্তি ফিরে না আসা
গাঁটে গাঁটে ব্যথাসামান্য পরিশ্রমেও ব্যথা বৃদ্ধি
স্মৃতিশক্তি হ্রাসমনঃসংযোগে ঘাটতি ও মানসিক বিভ্রান্তি
ঘুমে অস্বস্তিঘুমানোর পরও ক্লান্ত বোধ
আলো/শব্দ অসহ্যতাসংবেদনশীলতা বেড়ে যাওয়া
মাথা ঘোরা ও বমি ভাবস্নায়বিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া

চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার বলেন, “অনেক সময় এই উপসর্গগুলি বাত বা অস্টিয়োপোরোসিসের মতো মনে হয়, কিন্তু পরীক্ষায় কিছুই ধরা পড়ে না।”


🧬 নতুন রক্ত পরীক্ষায় আশার ইঙ্গিত

ব্রিটেনের University of East Anglia এবং Oxford Biodynamics-এর গবেষকেরা এক নতুন রক্ত পরীক্ষার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার নাম
‘EpiSwitch 3D Genomic Regulatory Immuno-genetic Profiling’।

এই পরীক্ষায় শরীরের জিনগত বিন্যাস (genetic pattern) বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকদের দাবি, এতে বোঝা যাবে—রোগীর শরীরে ক্রনিক ফেটিগ সিনড্রোমের জিনগত প্রভাব আছে কি না। একই সঙ্গে শরীরে লুকিয়ে থাকা অন্যান্য বিরল রোগও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

🔗 অফিসিয়াল সূত্র: University of East Anglia Research News

যদিও এই পরীক্ষা এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে, তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী—ভবিষ্যতে এটি CFS শনাক্তের একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হয়ে উঠবে।


💡 কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ CFS-এর মতো অদৃশ্য উপসর্গে ভুগছেন। সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধরা না পড়ায় চিকিৎসাও কঠিন হয়ে যায়। নতুন এই রক্ত পরীক্ষা সফল হলে, চিকিৎসকরা প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নির্ণয় করতে পারবেন—যা রোগীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে বড় স্বস্তি দেবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *