দার্জিলিঙে ভয়াবহ ধস: অন্তত ৭ জনের মৃত্যু, ভাঙল সেতু, বিচ্ছিন্ন সিকিম ও কালিম্পং

দার্জিলিঙে ভয়াবহ ধস! মাত্র এক রাতের টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিঙ। শনিবার রাতের প্রবল বর্ষণে পাহাড় জুড়ে নেমেছে ধস, ভেঙে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ লোহার সেতু, তিস্তার জল উঠে এসেছে…

October 5, 2025
1 min read

দার্জিলিঙে ভয়াবহ ধস!

মাত্র এক রাতের টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিঙ। শনিবার রাতের প্রবল বর্ষণে পাহাড় জুড়ে নেমেছে ধস, ভেঙে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ লোহার সেতু, তিস্তার জল উঠে এসেছে জাতীয় সড়কে। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দার্জিলিঙ, সিকিম এবং কালিম্পংয়ের সঙ্গে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মিরিক এলাকায় সেতু ভেঙে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ, আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা।

আগেই আলিপুর আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছিল উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে। সেই মতো শনিবার রাত থেকেই শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। সকাল পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে ওঠে। তিস্তার জল ২৯ মাইল ভালুখোলার কাছে উঠে আসে জাতীয় সড়কের ওপর, যার ফলে বন্ধ হয়ে যায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির একটি।

শুধু তাই নয়, মিরিক ও দুধিয়ার মাঝের লোহার সেতুর একটি অংশ প্রবল বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে। এর ফলে শিলিগুড়ি থেকে মিরিক পর্যন্ত যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমনকি দার্জিলিং শহরের সঙ্গেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে — যা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

মিরিকের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কার্শিয়াং) জানিয়েছেন, “মিরিক থেকে ইতিমধ্যে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে আরও দু’টি দেহ মিলেছিল। সুখিয়া এলাকায় আরও চার জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি, তবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে অনেক সমস্যা হচ্ছে। রোহিণী ও দিলারাম— দুই দিকের রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ। আমরা আটকে পড়া পর্যটক ও বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।”

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দিলারামের কাছেও বড় ধস নেমেছে, যার ফলে দার্জিলিঙে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ। কালিম্পং ও সিকিমের দিকেও সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বন্যার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বন্যপ্রাণীদের মধ্যেও। জঙ্গল থেকে তারা আশ্রয়ের খোঁজে গ্রামাঞ্চলের দিকে চলে আসছে। প্রশাসন জানিয়েছে, দু’টি হরিণকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক নদী বইছে বিপদসীমার অনেক ওপরে।

দার্জিলিঙে পর্যটকদের কাছে পরিচিত রোহিণী রোডের অবস্থাও করুণ। রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে নদীর দিকে নেমে গিয়েছে, ফলে পথচলা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার সকালে জিটিএ-র পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, আপাতত পর্যটকদের জন্য রক গার্ডেন এবং টাইগার হিল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রমণকারীদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিপর্যয়ের ফলে যে শুধু পরিবহণ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে তা নয়, পাহাড়ের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতেও বড় ধাক্কা লাগতে চলেছে। দুর্গাপুজোর ছুটিতে প্রচুর পর্যটক পাহাড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এক রাতের বৃষ্টিতে দার্জিলিঙের এমন ভয়াবহ অবস্থা উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের মনে আবারও ফিরিয়ে এনেছে পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষাকালীন বিপদের স্মৃতি। প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সর্বশক্তি নিয়ে নেমেছে, তবে প্রকৃতির রোষ যে এখনও থামেনি, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়।

কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *