২০২৬ সালে কবে দুর্গাপুজো?
শারদোৎসব মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। প্যান্ডেলহপিং, ঢাকের তালে তাল মিলিয়ে আনন্দ, অঞ্জলি আর বিজয়ার সিঁদুর খেলায় ভরে ওঠে দিনগুলো। কিন্তু চোখের পলকেই শেষ হয়ে যায় সেই অপেক্ষার দিনগুলি। এবছর (২০২৫) দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে। উমা ফিরে গিয়েছেন কৈলাসে, আর বাঙালি মন খুঁজে নিচ্ছে আগামী বছরের পুজোর দিনক্ষণ।
ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর পূর্ণ নির্ঘণ্ট। আগামী বছর পুজো পড়ছে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। অর্থাৎ, অপেক্ষা করতে হবে প্রায় আরও ১২ মাস, তারপরই ফের মণ্ডপে আসবেন মা দুর্গা।
📆 ২০২৬ সালের পুজোর তারিখগুলি এক নজরে
🔱 মহালয়া – ১০ অক্টোবর, শনিবার
এই দিনেই দেবীপক্ষের সূচনা ও পিতৃপক্ষের অবসান। ভোরবেলা রেডিওতে বাজবে চিরচেনা ‘মহিষাসুরমর্দিনীর’ সুর, ঘরে ঘরে বাজবে আগমনী গান। নবরাত্রির শুরু হবে দেশজুড়ে, পুজোর আবহে ঢেকে যাবে গলি-ঘুপচি।
🌿 ষষ্ঠী – ১৭ অক্টোবর, শনিবার
এই দিন থেকেই শুরু হবে দুর্গাপুজোর মূল পর্ব। দেবীর বোধন, মণ্ডপ উদ্বোধন আর আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে শহর ও মফস্সল। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে শুরু হবে মানুষের ভিড়।
🌸 সপ্তমী – ১৮ অক্টোবর, রবিবার
ভোরে নবপত্রিকা প্রবেশ ও কলাবৌ স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সপ্তমীর পুজো। দেবীর আহ্বানে মাতবে সমগ্র বাঙালি সমাজ।
🪔 অষ্টমী – ১৯ অক্টোবর, সোমবার
পুজোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। সকাল থেকে মণ্ডপে ভিড় জমাবে অসংখ্য ভক্ত অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে সন্ধিপুজো, যার মাহাত্ম্য বাঙালির সংস্কৃতিতে অপরিসীম।
🔥 নবমী – ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার
পুজোর মূল পর্বের শেষ দিন। দিনভর চলবে নানা আচার-অনুষ্ঠান, আর রাতে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাচ-গানের আসর।
🌺 বিজয়া দশমী – ২১ অক্টোবর, বুধবার
মায়ের বিদায়ের দিন। সিঁদুর খেলা, প্রণাম আর মিষ্টিমুখের মাধ্যমে সবাই জানাবে “আবার আসো মা”। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এই মহোৎসব।
📅 কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো – ২৫ অক্টোবর, শনিবার
মা দুর্গার বিদায়ের কয়েক দিন পরেই লক্ষ্মীদেবীর আরাধনায় মাতবে ঘরবাড়ি। আগামী বছর কোজাগরী পড়ছে ২৫ অক্টোবর।
২০২৬ সালে মহালয়া থেকে বিজয়া পর্যন্ত প্রতিটি দিন পড়ছে অক্টোবর মাসে, ফলে শরতের আকাশে কাশফুলের সাথে মিলেমিশে থাকবে পুজোর গন্ধ। এ বছর যাঁরা ক্যালেন্ডার হাতে পুজোর ছুটি পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এটি একেবারে সোনার সুযোগ। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিনের টানা উৎসবের সঙ্গে মিলছে সপ্তাহান্তের ছুটিও, যা আরও দীর্ঘ ছুটি এনে দিতে পারে।
এ বছরের পুজো শেষ হতেই মনখারাপ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আগামী বছরের তারিখ জেনে সেই মনখারাপ যেন খানিকটা কেটে যায়। এখন থেকেই শুরু হতে পারে নতুন প্যান্ডেলের ডিজাইন ভাবা, পুজোর পোশাক কেনার পরিকল্পনা আর ছুটির হিসেব কষা।
অক্টোবরের নরম হাওয়ায়, শিউলি-ভেজা ভোরে, ফের আসবেন মা। আর বাঙালি অপেক্ষা করবে সেই পবিত্র মহালয়ার সকালটির, যখন আকাশে ভেসে উঠবে – “জাগো দুর্গা, জাগো দশপ্রহরণধারিণী…”।