পঞ্চমী থেকেই ভিড়ের ঢল! সিপি বললেন, অনিয়ম হলে দায়ী থাকবেন উদ্যোক্তারা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ের ঢল! দ্বিতীয়ী দুর্গাপুজোর পর থেকে শহরের বড় বড় পুজো মণ্ডপে মানুষের ঢল নেমেছে। পঞ্চমীর সন্ধ্যাতেও সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার, সুরুচি সংঘ, কাশী বোস লেন, দেশপ্রিয় পার্ক, নাকতলা উদয়ন…

September 28, 2025
0 min read

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ের ঢল!

দ্বিতীয়ী দুর্গাপুজোর পর থেকে শহরের বড় বড় পুজো মণ্ডপে মানুষের ঢল নেমেছে। পঞ্চমীর সন্ধ্যাতেও সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার, সুরুচি সংঘ, কাশী বোস লেন, দেশপ্রিয় পার্ক, নাকতলা উদয়ন সংঘ—সব জায়গাতেই দেখা গিয়েছে একই চিত্র। লাইন ধরে ঢুকছেন দর্শকরা, কখনও মণ্ডপসজ্জা দেখতে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, আবার কিছু সময় নিই নিজস্বী বাজাতে।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এই ভিড়ের মাঝেই উদ্যোক্তাদের সতর্ক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “পুজোর পাঁচ দিনের মধ্যে বড় পুজোতে ভিড় যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন বিপদ ঘটার সম্ভাবনা থাকে। যদি কেউ মণ্ডপসজ্জা বা ভিডিয়ো দেখতে দু’তিন মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে, তারও প্রভাব পড়ে। পুলিশের সঙ্গে উদ্যোক্তাদেরও দায়িত্ব আছে। যা করতে হবে, সেটা নিয়ম মেনে করতে হবে। সুরক্ষার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।”

মনোজ আরও বলেন, “পুজো উদ্যোক্তাদের বহুবার এই বিষয়ে বোঝানো হয়েছে। এবারও বলছি, কোনও পুজো কমিটি নিয়ম না মানলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অঘটন ঘটলে উদ্যোক্তারাও দায়ী থাকবেন।”

পুজোর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নির্দেশিকা মেনে চলার বিষয়ে চলতি মাসের শুরুতেই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসি, দমকল দফতর, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং পুরসভার আধিকারিকরা। বৈঠকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, সব পক্ষের সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্গাপুজো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। আদালতের নির্দেশিকা বা প্রশাসনিক বিধি না মানলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা।

শহরের বিভিন্ন বড় মণ্ডপে পঞ্চমী থেকেই মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। শ্রীভূমি স্পোর্টিং, হিন্দুস্থান পার্ক, বালিগঞ্জ কালচারাল, হাতিবাগান, বাগবাজার, টালা চত্বর—অনেক পুজোতে ভিড় জমেছে। তবে দক্ষিণ কলকাতার পুজোতে ভিড় উত্তর কলকাতার তুলনায় কিছুটা কম।

যানজটের দিকে তাকালে দেখা গেছে, ভিড়ের কারণে কোথাও গাড়িঘোড়ার গতি কিছুটা ধীর হলেও সামগ্রিকভাবে ট্রাফিক সচল রয়েছে। পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা স্পষ্টভাবে বলছেন, যে কোনও অনিয়ম বা নিরাপত্তাহীনতা হলে উদ্যোক্তাদের দায় নিতে হবে।

পঞ্চমী থেকে শুরু হওয়া এই ভিড় এবং মানুষের উৎসাহই প্রমাণ করছে, কলকাতার দুর্গাপুজোর আবহ মানেই উৎসব, আনন্দ এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে এক ভিন্ন আনন্দময় মিলনক্ষেত্র। পুলিশ এবং পুজো কমিটির তৎপরতা এই আনন্দকে নিরাপদ রাখার প্রধান হাতিয়ার।

ষষ্ঠীতেই নামছে ঝড়বৃষ্টি! পুজোর ক’দিন কেমন থাকবে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *