জ়ুবিনের প্রতি অসমবাসীর আবেগে অভিভূত লোপামুদ্রা, তুললেন নিজের জীবনের প্রশ্নও!
অসমের আকাশ যেন কেঁদেছিল জ়ুবিন গার্গের চলে যাওয়ার দিনে। রাজ্যের শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গায় মানুষ নেমে এসেছিল পথে। চোখে জল, হাতে ফুল আর হৃদয়ে ছিল একটাই অনুভূতি—ভালবাসা। কোনও সেলিব্রিটির মৃত্যু নয়, এটা ছিল এক প্রজন্মের প্রিয় মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা। সেই দৃশ্য দেখে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি বাংলার গায়িকা লোপামুদ্রা মিত্রও। জ়ুবিনকে কখনও সামনাসামনি দেখেননি তিনি, কিন্তু গান আর গল্পের মাধ্যমে তাঁকে অনুভব করেছেন। আর অসমবাসীর এমন নির্ভেজাল ভালোবাসা দেখে শিল্পী হিসেবে নিজের জীবন ও যাত্রা নিয়েও ভাবতে শুরু করেছেন তিনি।
বর্তমানে লোপামুদ্রা এবং তাঁর স্বামী ও সুরকার জয় সরকার বিদেশে অনুষ্ঠানে ব্যস্ত। তাই আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে ফোনে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে এক বার্তায় তিনি নিজের মনের কথা খোলামেলা ভাবে জানিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “জ়ুবিন কিন্তু অসমের রাজা। আমরা সেটা বুঝতে পারলাম ওর চলে যাওয়ার পরেই। গোটা অসম নেমে এসেছিল পথে। এটা শুধু স্টারডমের জন্য হতে পারে না। এর নাম ভালবাসা।”
এই ভালোবাসার সামনে শিল্পী হিসেবে মাথা নত করেছেন লোপামুদ্রা। তিনি মনে করেন, এ এক নিখাদ আবেগ, যেটা কোনও হিসেবের মধ্যে ফেলা যায় না। “ভালবাসার কোনও ছক নেই। সে ভালবাসা অন্ধ। এই ভালবাসার জন্য মানুষকে আবেগপ্রবণ হতে হয়। জ়ুবিন নিশ্চয়ই তেমনই আবেগি ছিলেন। কোনও হিসেব করেননি,” লিখেছেন তিনি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, জ়ুবিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল না। কেবল লোকমুখে শোনা গল্প আর তাঁর গানের সুরেই গড়ে উঠেছিল সেই সম্পর্ক। “ভাল-মন্দ মিলিয়ে নানা কথা শুনেছি। কিন্তু সত্যি-মিথ্যে বিচার করতে যাই না,” জানিয়েছেন গায়িকা।
জ়ুবিনের জীবনযাত্রা নিয়েও মত প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা ক’জন পারি নিজের শর্তে বাঁচতে? সারাক্ষণ একটাই আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায়—পাছে লোকে কিছু বলে!” কিন্তু জ়ুবিন সে সবের তোয়াক্কা করেননি। নিজের মতো করে বেঁচেছেন, নিজের নিয়মে গান গেয়েছেন। হয়তো এই কারণেই তিনি এতটা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন।
এই দৃঢ়তা আর স্বাধীনতাই লোপামুদ্রার চোখে জ়ুবিনকে করে তুলেছে বিশেষ। তিনি মনে করেন, শিল্পীর আসল অমরত্ব এখানেই—যেখানে মৃত্যু হলেও থেকে যায় তার সুর, তার উপস্থিতি আর মানুষের অবিরাম ভালোবাসা। অসমের মানুষ যেমন ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করত কেবল তাঁর গান শোনার জন্য বা এক ঝলক দেখার জন্য, সেটাই শিল্পীর আসল জয়।
জ়ুবিনের চলে যাওয়া লোপামুদ্রাকে ভাবিয়েছে নিজের ভবিষ্যত নিয়েও। তিনিও কি চান এমন অমরত্ব? এমন এক উত্তরাধিকার, যা মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে? হয়তো হ্যাঁ। হয়তো এটাই প্রত্যেক শিল্পীর নিঃশব্দ স্বপ্ন—ভালবাসায় অমর হয়ে থাকা।
অসমবাসীর সেই অগাধ ভালবাসাকে কুর্নিশ জানিয়ে লোপামুদ্রা লিখেছেন, “অসমবাসীকে স্যালুট। তাঁরা দেখিয়ে দিলেন, ‘ভালবাসা কারে কয়’। জ়ুবিন চলে গেলেও তাঁদের হৃদয়ে সে আজও অমর।”
এই আবেগের সাক্ষী হয়ে লোপামুদ্রা যেন নতুন করে বুঝলেন, শিল্পীর আসল সাফল্য কেবল পুরস্কার বা জনপ্রিয়তায় নয়, বরং মানুষের মনে চিরকাল বেঁচে থাকার মধ্যেই। আর জ়ুবিন গার্গ সেই পথেই হেঁটেছেন—ভালবাসার পথ ধরে, যেখানে মৃত্যু কেবল একটি তারিখ, শেষ নয়।
পুজোর সময়ে কিউআর কোড স্ক্যানের আগে সতর্ক থাকুন: সাইবার প্রতারণা এড়ানোর টিপস