জয় আমার জীবনের প্রথম পুরুষ, প্রথম প্রেম! কী করে ভুলে যাই বলুন তো?
পুজোর সময়টা আমার কাছে অনেক দিন ধরেই আর আনন্দের থাকে না। কয়েক বছর আগে এই সময়েই বাবাকে হারিয়েছি, আর এ বছর পুজোর আগে চলে গেল জয়! ১৫ আগস্ট থেকে জয় হাসপাতালে ভর্তি ছিল। কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমি হাসপাতাল গিয়েছি, ওর মা-বাবা এবং পরিবারের পাশে থেকেছি যতটা পেরেছি। অনেক দিন ধরে অসুস্থ ছিল জয়, অল্প কথা বললেই হাঁপিয়ে যেত। তবুও ভেবেছিলাম, ফিরে আসবে। কারণ ওর মধ্যে ছিল অদম্য প্রাণশক্তি।
জয়ের এই প্রাণশক্তিই আমাকে প্রথম আকর্ষণ করেছিল। তখন অভিনয়ের দুনিয়া থেকে সে অনেকটাই সরে এসেছে, জনপ্রিয়তাও আগের মতো ছিল না। তবুও হইহই করে বাঁচত জয়। আমি উত্তর কলকাতার মেয়ে, সংসারে ছিল অনেক নিয়মকানুন। কিন্তু জয়ের উচ্ছ্বল জীবনযাপন আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। কলেজজীবন থেকেই ও আমার ‘ক্রাশ’। মা জয়ের ছবি দেখতে খুব ভালোবাসতেন, তাঁর কাছ থেকেই শুনতাম জয়ের অভিনয়ের গল্প। জাতীয় পুরস্কার জয়ী এই অভিনেতা একসময় বাংলা চলচ্চিত্র জগতে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছে। এরপর হঠাৎ যেন অদৃশ্য হয়ে গেলেও, যেমন কর্পূর উবে গেলেও সুগন্ধ রয়ে যায়, তেমনই থেকে গেছে জয়ের স্মৃতি।
আমি কখনও রাজনীতিবিদ বা অভিনেতা জয়কে নয়, মানুষ জয়কে কাছ থেকে দেখেছি। সে ছিল স্বাধীনচেতা, নিজের শর্তে বাঁচতে ভালোবাসত। বড়লোক পরিবারে জন্মালেও ছিল মাটির মানুষ। মা-বাবার প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল। জীবনের হিসাব-নিকাশ না করে বাঁচা এই মানুষটি ছিল দুর্দান্ত কথক। যে কাউকে নিজের কথার জালে জড়িয়ে ফেলতে পারত, আমাকেও সে এভাবেই আপন করে নিয়েছিল।
২০০৯ থেকে ২০১১—বাংলা রাজনীতিতে পালাবদলের সময়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ে জয়ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল। রাজনীতিতে জয় ছিল স্পষ্টবাদী ও সাহসী, তাই বিতর্কে জড়িয়েছিল প্রায়ই। তবে আমি আজও মনে করি, যদি অভিনয়ে পুরোপুরি মন দিত, বাংলা সিনেমা আরও অনেক ভালো ছবি পেত। পরিচালক নব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের ‘চপার’ ছবিতে ওর অভিনয় জাতীয় সম্মান এনে দিয়েছিল।