সাত ভাইয়ের তৃতীয়টিও প্রাণহীন!
মানুষের বহু দিনের কৌতূহল—আমাদের সৌরমণ্ডলের বাইরেও কি কোথাও প্রাণ আছে? সেই উত্তর খুঁজতে গিয়েই ২০১৭ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছিলেন এক আশ্চর্য নক্ষত্র পরিবার—‘ট্র্যাপিস্ট-১’। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে সাতটি পাথুরে গ্রহ। বিজ্ঞানীরা তাঁদের তুলনা করেছিলেন ‘চম্পা এবং তাঁর সাত ভাইয়ের’ সঙ্গে। আশা জেগেছিল, এই সাত ভাইয়ের মধ্যে অন্তত একজনের শরীরে জীবনের অস্তিত্ব মিলবেই।
কিন্তু সেই আশায় বারবার ধাক্কা খেতে হচ্ছে। গবেষণা বলছে, প্রথম দুটি গ্রহ সম্পূর্ণ নিষ্প্রাণ। আর এবার তৃতীয় গ্রহ সম্পর্কেও হতাশাজনক তথ্য পেলেন বিজ্ঞানীরা—এখানেও নেই প্রাণের অস্তিত্ব।
জীবনের সম্ভাবনা থেকে হতাশায়
শুরুতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এই সৌরমণ্ডলে জীবনের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। কারণ, সাতটি গ্রহের বায়ুমণ্ডল অনেকটাই পৃথিবী বা মঙ্গলের মতো। বিশেষ করে তৃতীয় গ্রহটিকে নিয়ে তাঁদের আশাবাদ ছিল প্রবল। অনুমান করা হয়েছিল, এই গ্রহটির তাপমাত্রা প্রায় ৪০০ কেলভিনের আশেপাশে হতে পারে। এমন তাপমাত্রায় জল এবং তার সঙ্গে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা ছিলই।
কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেল, তৃতীয় গ্রহেও মিলল না জল বা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের অস্তিত্ব। ফলে জীবন টিকে থাকার পরিবেশই সেখানে নেই।
কীভাবে জানলেন বিজ্ঞানীরা?
এই অনুসন্ধানে ব্যবহৃত হয়েছে ‘ট্রান্সমিশন স্পেকট্রোস্কপি’ নামের আধুনিক প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে গ্রহ যখন নক্ষত্রের আলো গ্রহণ করে, সেই আলো বিশ্লেষণ করা হয়। যদি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন বা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকে, তবে সেই ছাপ আলোর বর্ণালীতে ফুটে ওঠে। কিন্তু তৃতীয় গ্রহ থেকে পাওয়া আলোর বিশ্লেষণে এমন কোনও চিহ্নই খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা।
চম্পার সাত ভাইয়ের ভবিষ্যৎ
প্রথম দুই গ্রহের মতো তৃতীয় গ্রহও প্রাণহীন বলে প্রমাণিত হওয়ায় হতাশ বিজ্ঞানীরা। তবে এখনও বাকি চার ভাইয়ের অনুসন্ধান শেষ হয়নি। আশার আলো তাই পুরোপুরি নিভে যায়নি। হয়তো এই সাত ভাইয়ের মধ্যে কোথাও লুকিয়ে আছে জীবনের কোনো চিহ্ন, যা মানব সভ্যতাকে নতুন দিগন্ত দেখাতে পারে।
তবু প্রশ্ন থেকেই যায়—প্রাণের খোঁজে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা কি ক্রমশ ব্যর্থতার দিকেই এগোচ্ছে? নাকি ভবিষ্যতের গবেষণাই একদিন উন্মোচন করবে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য?
মুম্বই বিমানবন্দরে অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল ইন্ডিগো বিমানের যাত্রীরা