২৪,০০০ বছর এক বছরের সমান!
সৌরজগতে আবারও হইচই ফেলে দিয়েছে এক চমকপ্রদ আবিষ্কার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিহাও চেং এবং তাঁর দুই ছাত্র জিয়াক্সুয়ান লি ও এরিটাস ইয়াং আবিষ্কার করেছেন এক নতুন বামন গ্রহ— যার নাম রাখা হয়েছে ‘২০১৭ OF201’। এখনও তাদের গবেষণা কোনও পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়নি, তবুও ইতিমধ্যেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে উত্তেজনার ঝড় বইছে।
এই খুদে গ্রহটির বৈশিষ্ট্য রীতিমতো বিস্ময়কর। ব্যাস মাত্র ৪০৩ মাইল (প্রায় ৬৯২ কিলোমিটার), যা একে প্লুটো কিংবা সেরেসের থেকেও ছোট করে তোলে। তবে এর আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে কক্ষপথে— সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতেই এই গ্রহটির সময় লাগে প্রায় ২৪,০০০ বছর! তুলনামূলকভাবে, পৃথিবী যেখানে এক বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, সেখানে এই গ্রহের এক ‘বছর’ প্রায় ২৪ মিলেনিয়াম!
গ্রহটি সূর্য থেকে ৬৭৬ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, অর্থাৎ সৌরজগতের সবচেয়ে দূরের গ্রহ নেপচুন থেকেও বহুগুণ বেশি দূরে। চমকপ্রদভাবে, ১৯৩০ সালে এই বামন গ্রহটি শেষবার সূর্যের কাছাকাছি এসেছিল— ঠিক সেই বছরেই আবিষ্কৃত হয়েছিল প্লুটো। তবে পরবর্তীবার এটির ‘উপস্থিতি’ উপলব্ধি করা সম্ভব হবে আরও বহু বছর পরে— সুদূর ২৬১৮৬ সালে!
চেংের ভাষায়, “সূর্যের শেষপ্রান্তে এক বিশাল ট্রান্স-নেপচুনিয়ান বস্তু (TNO) আবিষ্কারের সৌভাগ্য হয়েছে আমাদের।” এই আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে সাত বছর ধরে চিলি ও হাওয়াইয়ের মানমন্দিরে গভীর পর্যবেক্ষণ ও অধ্যবসায়ের ফল।
বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়নের স্বীকৃত পাঁচটি বামন গ্রহ রয়েছে— প্লুটো, সেরেস, এরিস, হুমিয়া এবং মেকমেক। নতুন এই বস্তুটি প্লুটোর তুলনায় ছোট হলেও, তার নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণ বল রয়েছে যা একে গোলাকৃতিতে ধরে রাখতে সাহায্য করে— আর এটিই ‘বামন গ্রহ’ হিসেবে গণ্য হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
যদিও একে গ্রহের স্বীকৃতি দেওয়া হবে না বলেই ধারণা বিজ্ঞানীদের। কারণ ‘গ্রহ’ হওয়ার জন্য যেকোনও মহাজাগতিক বস্তুকে অবশ্যই তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়— সূর্যের চারদিকে ঘোরা, গোলাকৃতি হওয়া, এবং নিজের কক্ষপথ পরিষ্কার করা। শেষ শর্তটি পূরণে ব্যর্থ হওয়াতেই প্লুটোকেও ২০০৬ সালে ‘গ্রহ’ থেকে বাদ দিয়ে ‘বামন গ্রহ’-এর তকমা দেওয়া হয়েছিল। সেই একই কারণে ‘২০১৭ OF201’-ও স্থান পাবে ওই বিভাগেই।
এই আবিষ্কার নতুন করে ‘নবম গ্রহ’ (Planet Nine) সংক্রান্ত বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। ২০০৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানী মাইক ব্রাউন প্লুটোর মতোই আরও একটি বস্তু আবিষ্কার করেন, যার নাম এরিস। এরপর থেকেই সৌরজগতের অদৃশ্য, রহস্যময় প্রান্তে আরও অজানা বস্তুর খোঁজ শুরু হয়। ‘২০১৭ OF201’ সেই অনুসন্ধানেই একটি সম্ভাব্য বড় পদক্ষেপ।
ভবিষ্যতে এই ধরনের আবিষ্কার কেবল সৌরজগতের সীমা নয়, আমাদের গ্রহ ও মহাকাশ বিষয়ক বইগুলোর সীমাও আবার নতুন করে নির্ধারণ করতে বাধ্য করবে।
জামাইষষ্ঠীর ভোজেও অম্বল নয়! পুষ্টিবিদের টিপসেই থাকুন হালকা আর হাসিখুশি 💚