কমিশনের চাপে কী করল নবান্ন?
নির্বাচন কমিশনের কড়া অবস্থানের মুখে আপাতত বড় কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপে গেল না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বরং রাজ্য পরিষ্কার জানিয়ে দিল, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সাসপেন্ড বা এফআইআরের পথে হাঁটছে না তারা। তবে হ্যাঁ, দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে দু’জনকে—একজন সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (AERO) এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর।
ঘটনার সূত্রপাত, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে। নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়ে জানায়, পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাঁচজন সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে—চারজন আধিকারিককে নিলম্বন এবং এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করতে হবে।
এই নির্দেশের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য নিজের অবস্থান জানায়। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ কমিশনকে লেখা চিঠিতে জানান, “সুধীপ্ত দাস (ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী নিবন্ধন আধিকারিক) এবং সুরজিৎ হালদার (বারুইপুর পূর্বের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর)-কে নির্বাচনী কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি, তিনি জানান যে, অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে, যার রিপোর্টের ভিত্তিতে পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্যের যুক্তি: সরল বিশ্বাসে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তি অনুচিত
চিঠিতে রাজ্য সরকার ব্যাখ্যা করে, নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপর অনেকরকম বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়ে। অনেক সময়, সময়ের চাপে এবং কাজের পরিমাণের কারণে অধস্তন কর্মীদের উপর নির্ভর করতেই হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তদন্ত ছাড়া শাস্তি দিলে তা এক তরফা সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে এবং রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোতে কাজ করা বহু কর্মীর মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাকি তিন আধিকারিককে কেন এখনও শাস্তি দেওয়া হয়নি?
কমিশন পাঁচজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা বললেও, রাজ্য মাত্র দু’জনকে দায়িত্বচ্যুত করেছে। বাকিরা হলেন—দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, তথাগত মণ্ডল ও বিপ্লব সরকার। এঁরা সবাই WBCS ক্যাডারের অফিসার এবং নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে ছিলেন সংশ্লিষ্ট দুই বিধানসভা কেন্দ্রে। কমিশনের চাপে পড়েও নবান্ন এখনই তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
পেছনে কি রাজনৈতিক চাপ?
এই ঘটনার পটভূমিতে রাজনৈতিক বিতর্কও ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি প্রকাশ্যে বলেছেন, “আমি কাউকে শাস্তি হতে দেব না।” তিনি এক হাত নিয়েছেন কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে। কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেছেন, “এখনও তো নির্বাচন অনেক দেরি। এত তাড়াতাড়ি কমিশন কেন সক্রিয় হয়ে উঠেছে?” তাঁর অভিযোগ, কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে।
তদন্ত চলুক, শাস্তি পরে — এই পথে হাঁটছে রাজ্য
রাজ্যের বক্তব্য, তদন্ত ছাড়া চটজলদি কাউকে শাস্তি দেওয়া অনুচিত। কারণ এতে হয়তো দোষী নয় এমন কর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই আপাতত সাময়িকভাবে দায়িত্বচ্যুতি এবং অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান—এই দুই পদক্ষেপেই চলছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা।
এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কেবল নিয়মনীতি নয়, রাজনীতি এবং কৌশলের দোলাচলেও বারবার প্রভাবিত হয়। এখন দেখার, কমিশন রাজ্যের এই অবস্থানে সন্তুষ্ট হয় কি না, নাকি আরও কড়া পদক্ষেপের দিকে এগোয়।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?