পুলিশের মারেই কি আহত আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা?
আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক তরুণীর ধর্ষণ ও খুনের বর্ষপূর্তিতে আয়োজিত বিজেপির ‘নবান্ন অভিযান’ ঘিরে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই কর্মসূচিতে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন নির্যাতিতার মা। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে আগেই। তবে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা জানিয়ে দিয়েছেন, বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না—তদন্ত চলছে, দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিপি বলেন, “নির্যাতিতার মাকে মারধর করা হয়েছে—এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। যদি মারধরের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে কারা এই কাজ করেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হবে। যদি কোনো অভিযোগ পাই, তা হলে তো বটেই, না পেলেও আমরা নিজে থেকেই তদন্ত করছি।”
ঘটনাটি ঘটে শনিবার, বিজেপির ‘নবান্ন অভিযান’-এর দিন। ওই দিন ধর্মতলা থেকে শুরু হওয়া মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতারা, যেমন অগ্নিমিত্রা পাল, জোয়েল মুর্মু, শুভেন্দু অধিকারী, আশিস বিশ্বাস, অশোক দিন্দা প্রমুখ। মিছিল যত এগোতে থাকে, ততই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। জওহরলাল নেহরু রোডের উড়ালপুলের কাছাকাছি পৌঁছনোর পর ব্যারিকেডে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।
এই ধস্তাধস্তির মধ্যেই নির্যাতিতার মা দাবি করেন, তাঁকে মারধর করেছে পুলিশ। তাঁর মাথা ও পিঠে চোট লেগেছে বলেও জানান তিনি। এমনকি শাঁখা-পলাও ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওঁর আঘাত গুরুতর। সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করা হয়েছে। ওঁর স্বামীও আহত হয়েছেন।”
তবে পুলিশের তরফে আগেই এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়। তারা জানায়, কোনও মহিলাকে মারধর করা হয়নি। যদিও সিপি রবিবার বলেন, “ওঁর ইনজুরি দুঃখজনক। তবে সেটা কীভাবে হল, কেন হল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় এখনও আসেনি।”
ঘটনার আর এক দিকও রয়েছে। কলকাতা পুলিশের তরফে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মোট ৭টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। নাম রয়েছে অশোক দিন্দা, অগ্নিমিত্রা পাল এবং কৌস্তভ বাগচীর মতো নেতাদের। অভিযোগ, তাঁরা কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দিয়েছেন, হুমকি দিয়েছেন। লালবাজার জানিয়েছে, এই কর্মসূচির সময় পাঁচ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।
পুলিশ প্রকাশ করেছে একটি ভিডিও ফুটেজ, যেখানে এক পুলিশকর্মীকে নিগৃহীত হতে দেখা যাচ্ছে। ওই ফুটেজকে কেন্দ্র করেও পরিস্থিতি আরও গম্ভীর হয়েছে। একদিকে নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার ছবি—দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘন ঘন প্রস্রাব নয়, আরও অনেক উপসর্গ জানান দিতে পারে ডায়াবিটিস! কী ভাবে বুঝবেন?