উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরে অনিশ্চয়তা!
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দেশের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। বিশেষ করে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র তরফে এই বিষয়ে এখনও আলোচনা হয়নি বলে জানিয়ে দিলেন এনসিপি (এস) প্রধান শরদ পওয়ার।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শরদ পওয়ার বলেন, “উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। আলোচনাও হয়নি।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে—জোটের ভিতরে কি মতানৈক্য তৈরি হয়েছে, না কি কৌশলগত ভাবে দেরি করে চলছে পরিকল্পনা?
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই রাতে আচমকাই উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন জগদীপ ধনখড়। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই এই পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে একপ্রকার বিস্ময় তৈরি করেছিল। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তিনি ইস্তফা পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা গৃহীত হয়। এরপর ১ অগস্ট জাতীয় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ৯ সেপ্টেম্বর হবে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
৭ অগস্ট প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি। প্রার্থীরা ২১ অগস্ট পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন। মনোনয়ন খতিয়ে দেখা হবে ২২ অগস্ট। আর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৫ অগস্ট। যদি একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন, তাহলে নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠবে। আর যদি কনসেন্সাসে একজনকেই সবাই সমর্থন করেন, তাহলে ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়বে না।
এই পরিস্থিতিতে, বৃহস্পতিবার রাতে রাহুল গান্ধীর ডাকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা এক নৈশভোজে মিলিত হয়েছিলেন। ধারণা ছিল, সেখানে উপরাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু শরদ পওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, তেমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নৈশভোজের সন্ধ্যায় তৃণমূলের নবনির্বাচিত লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুলের পাশেই বসে ছিলেন। শিবসেনা (ইউবিটি)-র উদ্ধব ঠাকরেকে দেখা গিয়েছিল একটু আলাদা বসতে। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা চলেছে বলে সূত্রের দাবি। কিন্তু শরদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এস) কোনওভাবেই বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাবে না। ভাইপো অজিত পওয়ারের সঙ্গে এনসিপির এক হওয়ার সম্ভাবনাও তিনি খারিজ করে দেন।
এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই—‘ইন্ডিয়া’ শিবির কি আদৌ উপরাষ্ট্রপতি পদের জন্য একজন যৌথ প্রার্থী বাছাই করতে পারবে? সময় গড়াচ্ছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ঘনিয়ে আসছে। আর রাজনৈতিক মহলে এই অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে শরদ পওয়ারের এক সরল মন্তব্য—“এখনও কিছু ঠিক হয়নি।”
সবমিলিয়ে, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী জোটের কৌশল, সংহতি এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে আবারও উঠে এল বহু পুরনো সেই সংশয়—‘ইন্ডিয়া’ কি আদৌ একসঙ্গে পথ চলতে পারবে?