নতুন গানে শারীরিক হেনস্তার ইঙ্গিত দিলেন মোনালি ঠাকুর?
সুরের জগতে তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ গোটা দেশ। ‘মোহ মোহ কে ধাগে’ কিংবা ‘জারা জরা টাচ মি’র মতো জনপ্রিয় গানেও যাঁর সুরের যাদু, সেই মোনালি ঠাকুর এবার নিজের জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেন—গানের মাধ্যমে। বহুদিন ধরে ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালেই রেখেছেন এই গায়িকা। কিন্তু এবার সম্ভবত ভাঙলেন সেই নীরবতা।
শিগগিরই মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন গান ‘এক বার ফির’। আর এই গানকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে চর্চা ও কৌতূহল। কারণ, এই গানের ভিডিওয় এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যা শুধু সৃজনশীল শিল্প নয়—বরং যেন কোনও ব্যক্তিগত যন্ত্রণার প্রকাশ।
গানের মধ্যে লুকোনো বাস্তব?
ভিডিওর শুরুতেই মোনালি বলেন, “যখন খুব কাছের কেউ আঘাত করে বা প্রতারণা করে, তখন হৃদয়টা কেঁদে ওঠে। নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকি—আমার সঙ্গেই কেন এমন হল?” এই কথাগুলি যে শুধু সংলাপ নয়, বরং হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা ব্যথা—সেটা বোঝা যাচ্ছে গানের দৃশ্যগুলিতেই।
ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, একাধিকবার মোনালির চরিত্রকে হেনস্তা করা হচ্ছে—চড় মারা, গলা টিপে ধরা, মৌখিক অত্যাচার। এমন এক সম্পর্কের গল্প, যেখানে ভালোবাসার আড়ালে লুকিয়ে থাকে বিষাক্ততা।
মোনালির এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই গান আর পাঁচটা মিউজিক ভিডিওর মতো নয়। গানটি নাকি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সত্যি ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। যদিও তিনি কখনও প্রকাশ্যে তাঁর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার কথা বলেননি, তবুও এ বার মনে হচ্ছে, গানের মাধ্যমেই হয়তো নিজের কথা বলার সাহস জুগিয়েছেন তিনি।
ইতিবাচক বার্তা
তবে গানটি শুধুই যন্ত্রণার গল্প নয়। শেষের দিকে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন মোনালি। বলেন, “পৃথিবী যতই আঘাত করুক, হার মানা যাবে না।” এই বাক্য যেন সেই সব মানুষদের জন্য, যারা সম্পর্কের মধ্যে নিগৃহীত, কিন্তু ভয় বা সমাজের চাপের কারণে মুখ খুলতে পারেন না।
এই গান মুক্তি পাবে আগস্টের শেষ সপ্তাহে। ইতিমধ্যেই ঝলক-ভিডিও দেখে দর্শকের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ ও আবেগ, অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোনালির সাহসের প্রশংসাও করছেন।
দীর্ঘ পথচলা, আত্মপ্রকাশ এক নতুন রূপে
মাত্র ১৩ বছর বয়সে সঙ্গীতের জগতে পা রেখেছিলেন মোনালি ঠাকুর, প্রয়াত অভিনেতা শক্তি ঠাকুরের কন্যা হিসেবে। রিয়্যালিটি শো থেকে বলিউড, বাংলা সিনেমা থেকে লাইভ কনসার্ট—সব ক্ষেত্রেই নিজের ছাপ রেখেছেন। কিন্তু এতদিন তাঁর ব্যক্তিগত যন্ত্রণা নিয়ে কেউ কিছু জানতেন না। এবার গানের মাধ্যমে সেই দ্বার খুললেন তিনি।
নিজের কণ্ঠে বহু মানুষের গল্প গেয়েছেন তিনি। এবার গাইলেন নিজের গল্প। মোনালির এই সাহসিকতা শুধু একজন শিল্পী নয়, একজন নারী হিসেবেও প্রশংসার যোগ্য। কারণ, অনেক সময় সৃষ্টির মধ্যেই মানুষ খুঁজে পায় নিজের মুক্তির পথ। মোনালির ‘এক বার ফির’ হয়তো সেই রকমই এক পদক্ষেপ।
প্রোটিন খেয়ে মেদ ঝরাতে গিয়ে বেড়ে যেতে পারে ওজন, কোন ভুলে এমন হতে পারে?