এপস্টিন-কাণ্ডে নাম জড়ানোয় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা

এপস্টিন-কাণ্ডে নাম জড়ানোয় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প! জেফ্রি এপস্টিন—এই নামটি শুধু আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্বের কাছে এক চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারির প্রতীক। আর এবার সেই বিতর্কে নিজের নাম জড়ানোয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রাক্তন মার্কিন…

July 19, 2025
1 min read

এপস্টিন-কাণ্ডে নাম জড়ানোয় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প!

জেফ্রি এপস্টিন—এই নামটি শুধু আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্বের কাছে এক চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারির প্রতীক। আর এবার সেই বিতর্কে নিজের নাম জড়ানোয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক মার্কিন সংবাদমাধ্যম তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ ছড়াচ্ছে বলে দাবি করে ট্রাম্প সেই সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

কী অভিযোগ ট্রাম্পের?

প্রসঙ্গত, জেফ্রি এপস্টিন ছিলেন একজন কুখ্যাত ধনী ব্যবসায়ী যিনি বহু বছর ধরে যৌন অপরাধ ও শিশু পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে জেলে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করা হলেও, মৃত্যুর বিষয়টি এখনও রহস্যে মোড়া। সম্প্রতি একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র’ ছিল এবং একাধিকবার তাঁকে এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে দেখা গিয়েছে।

এই রিপোর্ট সামনে আসতেই ট্রাম্পের আইনজীবী দল তৎপর হয়। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যে তথ্য পরিবেশন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। তিনি এটিকে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন।

আদালতের দ্বারস্থ ট্রাম্প

এই ঘটনায় ট্রাম্প মার্কিন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর আইনজীবীরা মামলায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ ছাড়াই এমন তথ্য পরিবেশিত হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আইনজীবীদের কথায়, “মিডিয়া কখনও কখনও তথ্য পরিবেশনের স্বাধীনতাকে অপব্যবহার করে। কিন্তু সেটা যদি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মানহানির পর্যায়ে পৌঁছায়, তাহলে তা মেনে নেওয়া যায় না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কী বলছেন?

ট্রাম্প বর্তমানে ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে এমন বিতর্কিত প্রতিবেদন নিঃসন্দেহে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু আইনি লড়াই নয়, রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিরও অংশ।

একজন বিশ্লেষক বলেন, “এই ধরনের খবর ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ হয়তো তাঁর ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফেরানোর চেষ্টা।”

ট্রাম্পের অতীত সম্পর্ক নিয়ে কী জানা যায়?

প্রসঙ্গত, জেফ্রি এপস্টিন ও ট্রাম্প একসময় সামাজিক মেলামেশার পরিসরে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল ঠিকই। তবে ট্রাম্প বহুবার বলেছেন, তাঁদের মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল না। এমনকি এপস্টিনের অপরাধ ফাঁস হওয়ার পর তিনি নাকি সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।

শেষ কথা

এই মামলা আগামী দিনে কতটা গুরুত্ব পায় তা সময়ই বলবে। তবে স্পষ্ট যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ভাবমূর্তিকে ঘিরে কোনও আপস করতে রাজি নন। বিতর্ক যতই থাকুক না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেকোনো অপপ্রচার ঠেকাতে আইনি পথে লড়তে প্রস্তুত তিনি। এখন দেখার, আদালত এই অভিযোগ কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।

বিশ্বে তেলের দাম আকাশছোঁয়া, রাশিয়া থেকে কিনে ভারতে স্থিতিশীলতা!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *