ডায়াবেটিসে ভাত ছাড়লেও বিকল্প হতে পারে ভুট্টা!
ডায়াবেটিস মানেই খাওয়া-দাওয়ায় নানা বিধিনিষেধ। বিশেষ করে বাঙালির পাতে প্রতিদিনের ভাত অনেক সময়ই বাদ দিতে হয়। চিকিৎসকেরা বলেন, রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে নিয়মিত ভাত খাওয়া ঠিক নয়। অথচ ভাতের বদলে সবসময় রুটি, ওটস বা রাগি খেতে কারও ভাল লাগে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে—ভুট্টা কি ভাতের বিকল্প হতে পারে?
বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য স্পষ্ট: ভুট্টা ডায়াবেটিকদের জন্য বেশ উপকারী। কারণ, এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) তুলনামূলক কম। অর্থাৎ ভুট্টা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। তবে সেটা নির্ভর করে কীভাবে খাওয়া হচ্ছে তার উপরও।
ভুট্টায় রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ ফাইবার, ভিটামিন এ, বি, সি এবং নানা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ফাইবারের কারণে তা হজমে সহায়তা করে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাছাড়া ভুট্টা প্রোটিনেরও ভাল উৎস, যদিও মাছ-মাংসের মতো প্রথম শ্রেণির প্রোটিন নয়। বিশেষ করে এতে থাকা লাইসিন ও ট্রিপটোফ্যান অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই ভুট্টাকে শুধুমাত্র পুড়িয়ে বা গ্রিল করেই খেয়ে থাকেন। তবে এর আরও স্বাস্থ্যকর উপায় রয়েছে, যা ওজন কমাতেও সাহায্য করতে পারে:
১. গ্রিল করা ভুট্টা: ভুট্টা হালকা গ্রিল করে তার উপর লেবুর রস, বিটনুন ছড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে। এতে বাড়তি তেল বা ক্যালরির ঝুঁকি থাকে না। হজমে সুবিধা হয় এবং স্বাদেও নতুনত্ব আসে।
২. সেদ্ধ ভুট্টা: সবচেয়ে সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায়। ভুট্টা বা ভুট্টার দানা সেদ্ধ করে হালকা লবণ ও গোলমরিচ দিয়ে খেলে তা ফাইবার ও পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ রাখে। চাইলে পুদিনা পাতা বা আদার রস মিশিয়ে আরও সুস্বাদু করা যায়।
৩. ভুট্টা ও ছোলার স্যালাড: সেদ্ধ ভুট্টা ও ছোলা একসঙ্গে মিশিয়ে সঙ্গে শসা, টম্যাটো, পেঁয়াজ, লেবুর রস ও নুন দিয়ে তৈরি করুন হালকা স্যালাড। এতে প্রোটিন ও ফাইবার দুই-ই পাবেন, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
৪. ভুট্টা দিয়ে স্যুপ: পালং শাক, ব্রকোলি, গাজর ইত্যাদির সঙ্গে ভুট্টার দানা মিশিয়ে স্যুপ বানালে সেটি হবে হালকা, কম ক্যালরি ও পুষ্টিকর। তবে খেয়াল রাখতে হবে, স্যুপে যেন অতিরিক্ত ক্রিম বা তেল যোগ না হয়।
৫. বেবি কর্নের স্যালাড: সুইট কর্নের তুলনায় বেবি কর্নে ফ্যাট কম, ক্যালরিও কম। এটি ভিটামিন এ, সি ও ই-এর ভাল উৎস। ফলে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য বেবি কর্ন যথাযথ। এটি শসা ও পেঁয়াজ দিয়ে মিশিয়ে খেলে স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ দুইই বজায় থাকবে।
সাধারণভাবে বলা যায়, ডায়াবেটিস থাকলেও ভুট্টা খাওয়া নিরাপদ, তবে পরিমাণ ও রান্নার ধরনটা ঠিক রাখতে হবে। নিয়মিত ভুট্টা খেলে শুধু রক্তে শর্করাই নয়, হজম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। তবে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবসময় ভাল।
ক্রিকেটার চাহালের সঙ্গে নাম জড়ানো আরজে মাহবিশের নতুন চমক, কিনে নিলেন নিজস্ব ক্রিকেট দল!