২০০৮-২০১৭ সালের মধ্যে জন্মানোদের মধ্যে গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারের ঝুঁকি!!
এবার আর জ্যোতিষের পূর্বাভাস নয়, বরং কঠিন বৈজ্ঞানিক গবেষণাই জানিয়ে দিল—বিশ্বের নির্দিষ্ট কিছু বছরে জন্ম নেওয়া মানুষদের গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক অনেকটাই বেশি। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অধীনস্থ International Agency for Research on Cancer (IARC)-এর একটি গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য, যা ইতিমধ্যেই উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে গোটা বিশ্বে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১ কোটি ৫৬ লক্ষ মানুষ এই মুহূর্তে গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক রয়েছেন ভারতীয় নাগরিকরা।
কোন সালের জন্মানোদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে খ্যাতনামা বৈজ্ঞানিক জার্নাল Nature Medicine-এ। গবেষকরা জানিয়েছেন, ২০০৮ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া মানুষদের মধ্যে গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। আধুনিক জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবাণুর সংক্রমণের জেরে এই ঝুঁকি আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।
বিশ্বের ১৮৫টি দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই গবেষণায়। আশ্চর্যের বিষয় হল, ঝুঁকির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চিন। তার ঠিক পরেই রয়েছে ভারত। এই দুই দেশেই মিলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি। মূলত, এশিয়ার দেশগুলোতেই এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি: নীরব ঘাতক
গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারের পিছনে প্রধান অভিযুক্ত এক ব্যাক্টেরিয়া—Helicobacter pylori। এটি সাধারণত মানুষের পাকস্থলীতে বাস করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি নীরব থাকে, কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। কিন্তু জীবনযাপনের গাফিলতিতে এই ব্যাক্টেরিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং পাকস্থলীতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি করে। তার থেকেই প্রথমে গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং পরে ক্যানসারে রূপ নেয় সমস্যা।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ১.৫৬ কোটি সম্ভাব্য রোগীর মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশের ক্যানসার হতে পারে শুধুমাত্র এই ব্যাক্টেরিয়ার কারণেই। তবে গবেষকরা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এই বিপদের থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
ঝুঁকি কমানোর উপায় কী?
গবেষকদের মতে, গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার প্রতিরোধের অন্যতম মূল চাবিকাঠি হল সুস্থ জীবনযাত্রা। খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য রাখা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করা এবং হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরির সংক্রমণ নির্ণয় করে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করাই এই রোগ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বিশেষ করে ভারতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যেখানে অগোছালো খাদ্যাভ্যাস এবং অপরিষ্কার পানীয় জল ব্যবহারের প্রবণতা বেশি, সেখানে জনসচেতনতা গড়ে তোলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
উপসংহার
গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার নিয়ে এই ভবিষ্যদ্বাণী নিছক পরিসংখ্যান নয়, বরং এক কঠিন সতর্কবার্তা। আগামী কয়েক দশকে যদি এই ঝুঁকির মুখোমুখি প্রজন্মকে বাঁচাতে হয়, তাহলে এখনই শুরু করতে হবে সচেতনতা, পরিবর্তন আনতে হবে দৈনন্দিন অভ্যাসে। কারণ প্রতিটি জীবনই মূল্যবান, আর প্রতিরোধ সব সময়েই চিকিৎসার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
‘পুতিনের কাজে খুশি নই’: ট্রাম্পের ক্ষোভ, রাশিয়ার উপর ফের নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত