ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতিতে ভারতের উদ্বেগ: তামায় ৫০% ও ওষুধে ২০০% কর বসানোর ভাবনা

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতিতে ভারতের উদ্বেগ! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের কড়া শুল্ক নীতির ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে আলোড়ন তুলেছেন। এবার তাঁর নিশানায় ভারতের অন্যতম রফতানি ক্ষেত্র—তামা ও ওষুধ…

July 9, 2025
1 min read

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতিতে ভারতের উদ্বেগ!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের কড়া শুল্ক নীতির ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে আলোড়ন তুলেছেন। এবার তাঁর নিশানায় ভারতের অন্যতম রফতানি ক্ষেত্র—তামা ও ওষুধ শিল্প। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউজের ক্যাবিনেট বৈঠকে তামার উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে আমদানি করা ওষুধের উপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প জানান, “আমরা তামার উপর শুল্ক আরোপ করছি। এই হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।” মার্কিন বাণিজ্যসচিব হওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, জুলাইয়ের শেষের দিক থেকে বা ১ অগস্ট থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে।

শুধু তামাই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ওষুধ আমদানির বিষয়েও বড়সড় সিদ্ধান্ত আসতে চলেছে। যদিও এখনই তা কার্যকর হচ্ছে না। প্রস্তুতকারক দেশগুলিকে এক-দেড় বছরের সময় দেওয়া হবে। তার পরেই লাগু হবে এই উচ্চ হারের শুল্ক। ট্রাম্পের সাফ বার্তা, “যারা আমাদের ঠকাতে চায়, তাদের মূল্য চোকাতে হবে।”

এই ঘোষণা যে ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থে বড় ধাক্কা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, আমেরিকাই ভারতের ওষুধ রফতানির সবচেয়ে বড় বাজার। শুধু ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষেই ভারত ২৭৯০ কোটি মার্কিন ডলারের ওষুধ রফতানি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তামাজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও আমেরিকা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যসঙ্গী। ২০২৪-২৫ সালে এই খাতে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৬ কোটি ডলার।

নয়াদিল্লির দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে ট্রাম্পের ব্রিকস্‌ নিয়ে কড়া অবস্থানের কারণে। প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, খুব শীঘ্রই ব্রিকস্‌ সদস্য দেশগুলিকেও ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। তাঁর মতে, “ব্রিকস্‌ গঠিত হয়েছে আমেরিকাকে আর্থিকভাবে দুর্বল করতে। আমি তা হতে দেব না।” এখানেই থেমে থাকেননি ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে শোনা গিয়েছে পরিচিত চ্যালেঞ্জ—“যদি তারা সেই খেলা খেলতে চায়, আমিও খেলতে প্রস্তুত!”

এই অবস্থায় ভারতের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কূটনৈতিক সমঝোতা এবং বিকল্প বাণিজ্যিক কৌশল। কারণ, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল ও ধাতু শিল্পে সরাসরি প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি রফতানিকারকদের ক্ষেত্রে এটি বড়সড় বিপদ।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের উচিত দ্রুত মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা। পাশাপাশি, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো নতুন বাজারে রফতানির পথ খোঁজা সময়ের দাবি।

এই মুহূর্তে ট্রাম্পের ঘোষণাগুলি শুধু রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ রূপরেখা গঠনে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। ভারতের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এই শুল্ক নীতির মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

দলাই লামার জন্মদিনে মোদীর শুভেচ্ছায় ক্ষুব্ধ চিন! সরকারি প্রতিবাদ জানাল বেজিং, ভারতের পদক্ষেপে ‘হস্তক্ষেপ’ দেখছে চিনা প্রশাসন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *