পরাগের প্রেমের সত্যিই কি শেষ নেই শেফালীর জন্য?
শেফালী জরীওয়ালার মৃত্যু ঘিরে যতই শোকের ছায়া নেমে আসুক, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের আগুন কিন্তু একইসঙ্গে জ্বলেছে। স্ত্রীর প্রয়াণের ঠিক পরের দিনেই পরাগ ত্যাগীকে দেখা যায় তাঁদের প্রিয় সারমেয় সিম্বাকে নিয়ে হাঁটতে বেরোতে। হাতে এক দিকে সিম্বার বেল্ট, অন্য হাতে শেফালীর একটি ফ্রেমবন্দি ছবি। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই স্তম্ভিত, অনেকেই তীব্র সমালোচনায় মুখর। উঠেছে প্রশ্ন—স্ত্রীকে সত্যিই ভালবেসেছিলেন তো পরাগ? নাকি সবটাই একপ্রকার সামাজিক প্রতিচ্ছবি মাত্র?
তবে যাঁরা পরাগ-শেফালীর দীর্ঘ সম্পর্কের সাক্ষী, তাঁরা জানেন, এই দম্পতির মধ্যে ছিল হৃদয়ের গভীর টান। ‘বিগবস্ ১৩’-র দর্শক মনে আছে, শো চলাকালীন হঠাৎ ঘরে স্বামীকে দেখে শেফালীর যেভাবে দৌড়ে গিয়ে আলিঙ্গন করেছিলেন, তা ছিল এক অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ক্যামেরার সামনেই পরাগ বলেন, “আমার পরিচয় এখন শেফালীর স্বামী হিসেবে—এটাই আমার গর্ব।” তখন শেফালীর চোখেমুখে ছিল শুধুই আবেগ, আর পরাগের কণ্ঠে স্ত্রীকে নিয়ে গর্বের অহংকার।
এমনকি সেই একই পর্বে শেফালী জানান, তিনি সেখানে গোল রুটি বানানো শিখেছেন, আর পরাগ তাঁকে বলেন ‘আমার সোনা বাচ্চা’। স্বামী-স্ত্রীর এমন আন্তরিক মুহূর্তে দর্শকরা যেন প্রেমে আবার নতুন করে বিশ্বাস ফিরে পান।
তবে শেফালীর মৃত্যুর পরে পরাগের আচরণ অনেককেই ভাবিয়ে তোলে। এত শোকের মাঝেও কীভাবে তিনি কুকুরকে নিয়ে বেরোন? প্রশ্ন ওঠে—এ কেমন শোকপ্রকাশ? কেউ বলেন, এটি সহানুভূতির অভাব। তবে, পরাগের ভক্তরা মনে করিয়ে দেন—সিম্বা তাঁদের সন্তানের মতো। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সিম্বাকেই আগলে রাখাটাই তো স্বাভাবিক।
পরাগ নিজেও এই ভালবাসার প্রমাণ বারবার দিয়েছেন। বহু পুরনো সাক্ষাৎকারেও তাঁকে বলতে শোনা গেছে, “শেফালী শুধু আমার স্ত্রী নন, ও আমার সেরা বন্ধু, আমার শক্তি।”
সমাজ যতই প্রশ্ন করুক, চোখের জলে ভেজা সেই পরাগকে যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন—ভালবাসা কখনও মাপার নয়, বিচার করার নয়। তা হয় নিঃশর্ত, নীরব, গভীর।
নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি স্থগিত, ট্রাম্পের সমর্থনের ছায়া কি পড়ল আদালতের সিদ্ধান্তে?