ভারত-পাক বন্দি তালিকা বিনিময়!
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রায়শই টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যায়, তবে কিছু নির্দিষ্ট চুক্তি ও মানবিক উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য রক্ষার সেতুবন্ধনের কাজ করে। তারই অংশ হিসেবে, ২০০৮ সালে স্বাক্ষরিত এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছরের ১ জানুয়ারি ও ১ জুলাই একে অপরের হেফাজতে থাকা বন্দিদের তালিকা বিনিময় করে দুই দেশ। সেই চুক্তি মেনেই ২০২৫ সালের ১ জুলাই দিল্লি ও ইসলামাবাদে কূটনৈতিক স্তরে বন্দি-তালিকা বিনিময় করল ভারত ও পাকিস্তান।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুসারে, নয়াদিল্লি এবার পাকিস্তানকে যে তালিকা দিয়েছে তাতে রয়েছে ৩৮২ জন অসামরিক বন্দি ও ৮১ জন মৎস্যজীবীর নাম, যাঁরা হয় পাকিস্তানের নাগরিক, নয়তো তাঁদের পাকিস্তানি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এঁরা প্রত্যেকেই বর্তমানে ভারতের হেফাজতে রয়েছেন।
অন্য দিকে, পাকিস্তান যে তালিকা দিয়েছে, তাতে রয়েছে ৫৩ জন অসামরিক বন্দি ও ১৯৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীর নাম, যাঁদের হয় ভারতের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বা পাকিস্তান তাঁদের ভারতীয় বলে মনে করছে।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, পাকিস্তানে আটক ১৫৯ জন ভারতীয় বন্দিকে আগেই মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরানোর আবেদন জানিয়েছে নয়াদিল্লি। তাঁদের মধ্যে অনেকেই মৎস্যজীবী, যাঁদের কারাবাসের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে ২৬ জন বন্দির ক্ষেত্রে ভারতীয় দূতাবাসের সহায়তা পৌঁছনোর ব্যবস্থাও করতে বলেছে ভারত। পাশাপাশি, পাকিস্তানের নাগরিক বলে চিহ্নিত ৮০ জন বন্দির পরিচয় দ্রুত নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদকে অনুরোধ করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বন্দিদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় এমন উদ্যোগ বারবার প্রয়োজন বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। কারণ, বহু ক্ষেত্রেই সীমান্তবর্তী জেলেপাড়ার মানুষ অজান্তেই জলসীমা পার করে ফেলেন এবং দুই দেশের কোস্ট গার্ড তাঁদের আটক করে কারাগারে পাঠায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে মোট ২,৬৬২ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী এবং ৭১ জন অসামরিক বন্দিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে ভারত সরকার। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যেই ফিরেছেন ৫০০ জন মৎস্যজীবী এবং ১৩ জন অসামরিক বন্দি।
এই উদ্যোগ শুধু মানবিকতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় আচরণের প্রতিফলন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দি প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে হলে দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও যোগাযোগ আরও জোরদার করতে হবে।
নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি স্থগিত, ট্রাম্পের সমর্থনের ছায়া কি পড়ল আদালতের সিদ্ধান্তে?