বুথে বুথে বিজেপির অঙ্কচাষ! সাংগঠনিক গোঁজামিল মেটাতে রাজ্যজুড়ে নামছে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল

বুথে বুথে বিজেপির অঙ্কচাষ! শুভেন্দু অধিকারীর আশঙ্কা এবার রূপ নিল কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সরাসরি মাঠে নামার সিদ্ধান্তে। বিজেপি-র পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাংগঠনিক খতিয়ান খাতায় যা লেখা, মাটিতে তার সঙ্গে মেলে না—এমনটাই উঠে…

June 4, 2025
1 min read

বুথে বুথে বিজেপির অঙ্কচাষ!

শুভেন্দু অধিকারীর আশঙ্কা এবার রূপ নিল কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সরাসরি মাঠে নামার সিদ্ধান্তে। বিজেপি-র পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাংগঠনিক খতিয়ান খাতায় যা লেখা, মাটিতে তার সঙ্গে মেলে না—এমনটাই উঠে এসেছে একাধিক পর্যবেক্ষকের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে। সেই বাস্তবতা যাচাই করতেই ৪ জুন থেকে শুরু হয়েছে ‘বুথ সশক্তিকরণ’ কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের কাজ। তবে এই কর্মসূচি যতই অভ্যন্তরীণ হোক না কেন, বিজেপির জন্য এটি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রণকৌশল হয়ে উঠেছে।

এই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মঙ্গল পাণ্ডে। শুভেন্দুর প্রশ্নে প্রথমেই বনসলের নজরে আসে যে, বহু মণ্ডল, শক্তিকেন্দ্র বা বুথ স্তরের কমিটি নথিপত্রে থাকলেও বাস্তবে সেগুলির অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে। এরপরই দিল্লি থেকে বিভিন্ন জেলায় থাকা কর্মীদের ফোন করে যাচাই শুরু হয়। সেই যাচাইয়ে গোঁজামিল স্পষ্ট হলে, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরাসরি মাঠে নেমে সংগঠনের আসল চেহারা খতিয়ে দেখার।

মণ্ডল স্তরে যাচাই চলছে ৪ জুন থেকে। জেলা নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ডাকা হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডল কমিটিকে। যাচাই করা হচ্ছে যে, জমা পড়া তালিকা অনুযায়ী সংগঠন বাস্তবেও সক্রিয় আছে কি না। এরপর ৭ জুন থেকে শুরু হবে শক্তিকেন্দ্র পর্যায়ের সমীক্ষা, যা চলবে সপ্তাহব্যাপী। চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছবে বুথ স্তরে। সেখানে কর্মী সংখ্যা ও কাঠামো মিলিয়ে দেখা হবে বাস্তবতার সঙ্গে।

এই সমীক্ষা তিনটি ধাপে চলছে—প্রথমে সংগঠনের আসল চিত্র অনুধাবন, দ্বিতীয় ধাপে অসম্পূর্ণতা পূরণ এবং তৃতীয় ধাপে দুর্বল এলাকায় শক্তিবৃদ্ধির প্রয়াস। লক্ষ্য একটাই—২০২৪ সালের মতো বিভ্রান্তিমূলক সংগঠন নয়, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাস্তবভিত্তিক প্রস্তুতি।

এই কর্মসূচিতে যাঁরা মাঠে নামছেন তাঁদের তালিকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য বিজেপি-র দুই সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ও সতীশ ঢোন্ডের পাশাপাশি পাঁচ সাধারণ সম্পাদক, দুই সহসভাপতি, একাধিক প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিরোধী মুখ্য সচেতক পর্যন্ত অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গল পাণ্ডে নিজেও মণ্ডল পর্যায়ে গিয়ে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা এই কর্মসূচির গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।

বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৮০ হাজার বুথ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার বুথে ৯০ শতাংশের বেশি মুসলিম ভোটার থাকায় বিজেপি সেখানে বুথ কমিটি গঠনে আগ্রহ দেখায়নি। আবার ৯ হাজারেরও বেশি বুথে ‘সন্ত্রাসের আবহ’ বলে দল দাবি করছে। কিন্তু বাকি প্রায় ৫৭ হাজার বুথে পূর্ণাঙ্গ সংগঠন গড়তে চাইছে বিজেপি। এই লক্ষ্যপূরণই এখন বনসল ও পাণ্ডের মূল ফোকাস।

এই রণকৌশল সফল হলে বিজেপি আগামিদিনে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন সাংগঠনিক বাস্তবতায় পা রাখতে পারবে—এমনটাই আশা করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

পাতিলেবু খেলে মাইগ্রেন কমে? ডাক্তাররা যা বলছেন ভাইরাল টোটকা নিয়ে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *