সুরভীন চাওলার বীভৎস ‘কাস্টিং কাউচ’ অভিজ্ঞতা!
বলিউড-দক্ষিণী সিনেমা জগতের অন্ধকার দিক, ‘কাস্টিং কাউচ’-এর কাহিনি আজ আর নতুন নয়। তবু একের পর এক অভিনেত্রী উঠে আসছেন নিজস্ব শ্লীলতাহানির বেদনাগুলো খুলে বলার জন্য। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন ‘হেট স্টোরি’ খ্যাত অভিনেত্রী সুরভীন চাওলা। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা শুধু বলিউডে নয়, দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতেও এক ধরনের শোষণ ও প্রেশার মোকাবিলা করেছেন তিনি।
সুরভীন জানালেন, একাধিকবার দক্ষিণী সিনেমায় সুযোগ পেতে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু প্রতি বারই গিয়ে অভিজ্ঞ হয়েছেন মানসিক ও শারীরিক চাপের। সবচেয়ে বেদনাদায়ক ছিল ওজন নিয়ে হওয়া অবমাননা। তিনি বললেন, “আমাকে ওজন বাড়াতে বলা হয়েছিল। ওজন না বাড়ালে ‘কিছুই তো নড়বে না’ — এমন কথাও শুনেছি।” শুধু তাই নয়, দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে ওজন বাড়াতে বলা হয়, কিন্তু বলিউডে সুযোগ পেতে হলে আবার ওজন কমাতে হবে। এই পারস্পরিক চাপের মুখে সুরভীন বলিউডের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন।
সুরভীন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “আমাদের সময় সহবতের অভাব ছিল। এখনও এসব কথাবার্তা চলে, তবে এখন মোড়কটা একটু বদলেছে।” অর্থাৎ, কথা হয়তো এখন একটু মার্জিত, কিন্তু মূল সমস্যাটা এখনও ঠেকানো যায়নি।
এই মানসিক অবস্থা এবং শারীরিক চাপের মাঝে সুরভীন লড়াই করেছেন নিজের স্বপ্নের জন্য। এদিকে, বলিউডে ওয়েব সিরিজের মাধ্যমেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন তিনি, যেখানে কিছুটা নিরাপদ পরিবেশ এবং সুযোগ পেয়েছেন। তবে এই লড়াই যে কতটা কঠিন, তার একটা বড় উদাহরণ হল তার ‘ওজন বাড়ানোর’ দাবির মতো হাস্যকর ও অপমানজনক শর্ত।
কাস্টিং কাউচ মানেই শুধু শারীরিক হেনস্থা নয়, সেটি মানসিক অত্যাচার ও অবমূল্যায়নেরও নাম। সুরভীন এমন একটি বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন যেখানে তার নিজের শরীরের প্রতি আস্থা হারানোর ঝুঁকি ছিল। একজন অভিনেত্রীর স্বপ্ন ও পরিশ্রমকে এতোটাই ছোট করে দেখানো হয় যে, ‘ওজন কম বা বাড়াও’— এইসব কথা হঠাৎ করে জীবনের বড় বাধায় পরিণত হয়।
দক্ষিণী সিনেমা এবং বলিউড— দু’পাশেই অভিনয় জগতে যাঁরা আসেন, তাঁদের এই ধরনের অসুস্থ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। সুরভীনের মতো তরুণ অভিনেত্রীদের সাহসী মুখ ফুটিয়ে দেওয়ায় এই সমস্যা সামনে আসছে, যা আরও অনেকের জন্য পথ খুলে দেবে।
সুরভীন চাওলার মতো অভিনেত্রীদের পাশে দাঁড়ানো ও এই ধরনের দায়িত্বশীলতা তুলে ধরা এখন খুবই জরুরি। কারণ, শুধু মুখে কথা বললেই হবে না, বাস্তবেই বদলাতে হবে শিল্পজগতের সংস্কৃতি ও ব্যবস্থাকে।
তবে শেষ কথা হল, নিজের যোগ্যতা, প্রতিভা ও পরিশ্রমের ওপর ভরসা রেখে সুরভীন এগিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো অপমান ও বাধা পেরিয়ে নিজের জায়গা করে নিচ্ছেন, যা নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস।
আম খাওয়ার সেরা সময় এবং কীভাবে খেলে ওজন বা শর্করা বাড়বে না!