দেবাশিস হালদারের পোস্টিং ঘিরে বিতর্ক!
হাওড়ায় কাজ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বদলি হলেন গাজোলে—তাও এমন এক হাসপাতালে, যেখানে শূন্যপদই নেই! চিকিৎসক দেবাশিস হালদারের বদলি ঘিরে এখন উত্তাল চিকিৎসক মহল। তাঁর দাবি, এটা নিছক বদলি নয়—এই সিদ্ধান্তের পেছনে আছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
দেবাশিস হালদার শুধু আর এক জন চিকিৎসক নন—তিনি ছিলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আন্দোলনের অন্যতম মুখ। সেই সময়কার প্রতিবাদে যাঁরা সামনের সারিতে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম তিনি। এখন তাঁর পোস্টিং নিয়ে যা ঘটেছে, তা অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে প্রতিশোধের নমুনা।
নিয়ম মেনেও কেন ব্যতিক্রম?
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট দেবাশিস হালদার নিয়োগ পেয়েছিলেন সরকারি নিয়মে। স্বাস্থ্য ভবনের আয়োজিত কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন ২৭ ফেব্রুয়ারি। সেখানেই তিনি স্পষ্টভাবে জানান, হাওড়া জেলা হাসপাতালে পোস্টিং চান। প্রাথমিক বন্ডে সই করে জমাও দেন। কিন্তু ২০ মে প্রকাশিত চূড়ান্ত মেধাতালিকায় দেখা যায়, তাঁকে পাঠানো হয়েছে গাজোল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে—যেখানে আদৌ কোনও শূন্যপদ ছিল না!
এই ঘটনার বিরুদ্ধে রীতিমতো সরব হয়েছে West Bengal Junior Doctors’ Association (WBJDF) ও Doctors’ Front (WBDF)। তাঁদের বক্তব্য, মোট ৭৭৮ জন চিকিৎসক অংশ নিয়েছিলেন ওই কাউন্সেলিংয়ে, কিন্তু এমন অস্বাভাবিক পোস্টিং একমাত্র দেবাশিসের ক্ষেত্রেই ঘটেছে।
পোস্টিংয়ের পেছনে প্রতিহিংসা?
WBDF ও WBJDF-এর চিকিৎসকেরা দাবি করছেন, এটি একটি ‘পলিটিক্যাল টার্গেটিং’। দেবাশিস আরজি করের আন্দোলনে সরব ছিলেন, এবং সেটাই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁরা বলছেন, ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত শূন্যপদের তালিকায় রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের ৮৮টি শূন্যপদের উল্লেখ ছিল। কিন্তু মালদহ জেলার গাজোল হাসপাতালে এমন কোনও পদ ছিল না।
দেবাশিস বলেন, “৭৭৮ জনের নামের তালিকা প্রকাশিত হল, অথচ একমাত্র আমার নামের পাশেই পোস্টিংয়ের জায়গা পাল্টে গেল! এর পেছনে যুক্তির কোনো ভিত্তি নেই, শুধুই প্রতিহিংসার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।” তিনি আইনি পথে এগোনোর কথাও ভাবছেন।
চিকিৎসক মহলের ক্ষোভ
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে WBJDF। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সহ্য করা হবে না। চিকিৎসকদের পরিষেবা যেখানে মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে জড়িত, সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা জায়গা পেতে পারে না।
এই বিতর্ক ঘিরে শুধু চিকিৎসক মহল নয়, সাধারণ মানুষও ভাবছে—নিরপেক্ষতা কি আর সরকারি সিদ্ধান্তে অটুট আছে? একজন যোগ্য চিকিৎসক তাঁর মেধা ও অধিকার থাকা সত্ত্বেও যদি এভাবে ‘শাস্তি’ পান, তাহলে বাকিদের ভবিষ্যৎ কোথায়?
এই ঘটনা হয়তো একটি ‘বদলি’ মাত্র, কিন্তু তার প্রতিধ্বনি অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যাবে। দেবাশিসের প্রতিবাদ শুধু একক সংগ্রাম নয়, এটা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষার লড়াই হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে উঠছে।
এশিয়ান কাপে খেলাই এখন লক্ষ্য, সতীর্থদের বার্তা দিলেন মরিয়া সুনীল ছেত্রী