ডিসেম্বরেই হওয়া উচিত নির্বাচন!
বাংলাদেশের রাজনীতির উত্তাল আবহে এবার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এল দেশের সেনাপ্রধানের কাছ থেকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হওয়া উচিত—এই মন্তব্য করে কার্যত বিরোধী দল বিএনপির দাবিকে সমর্থন করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জ়ামান। শুধু তাই নয়, অন্তর্বর্তী সরকার ও তাদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী সংস্কার উদ্যোগের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি।
বুধবার ঢাকায় সেনানিবাসে শীর্ষ সেনা কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জেনারেল ওয়াকার। সেখানেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবলমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে।” এই বক্তব্যের সঙ্গে যেন অদ্ভুত মিল দেখা যাচ্ছে সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি ও তাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবস্থানের। মঙ্গলবারই ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন ফখরুল। তার পরের দিন সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই মনে করছেন।
প্রসঙ্গত, শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমানে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগে ব্যস্ত। কিন্তু এই উদ্যোগ সাংবিধানিকভাবে কতটা বৈধ—সেই প্রশ্নই তোলেন সেনাপ্রধান। তাঁর মতে, দেশের ভবিষ্যতের জন্য এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত বা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নয়, বরং সেটা একটি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
এখানেই শেষ নয়। জেনারেল ওয়াকার আরও একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মুখ খোলেন—মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মার্কিন প্রস্তাবিত ‘মানবিক করিডর’ গঠনের ব্যাপারে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এই করিডর স্থাপন নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু সেনাপ্রধানের বক্তব্য ছিল দৃঢ়: “এমন কোনো সিদ্ধান্ত অবশ্যই একটি নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকেই আসা উচিত। তাও আবার বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দেশের স্বার্থে, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই যে কোনও আন্তর্জাতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও একমাত্র জাতীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।”
সেনাপ্রধানের এই মন্তব্যে দেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সঞ্চার হয়েছে। অনেকের মতে, সেনাবাহিনীর এমন প্রকাশ্য বক্তব্য বিরল এবং তা রাজনৈতিক বার্তা বহন করে বলেই মনে করা হচ্ছে। যেহেতু অতীতে বাংলাদেশে সেনা হস্তক্ষেপের নজির রয়েছে, তাই বর্তমান এই অবস্থানকে অনেকেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।
ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়া উচিত—এই সুরে সেনাবাহিনী মুখ খুলতেই রাজনীতিতে নয়া মাত্রা যুক্ত হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, সরকারের তরফে এই বার্তার জবাব কীভাবে আসে।
কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঘোমটা ঢাকা জাহ্নবী! লাল গালিচায় মা শ্রীদেবীর ছায়া যেন ফিরল মেয়ে রূপে