বাংলাদেশের নতুন পেস গুরু শন টেট!
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। এবার তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলামদের পেস আক্রমণকে শান দিতে আসছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন গতিময় পেসার শন টেট। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
অ্যালান ডোনাল্ড দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই খালি ছিল বাংলাদেশের বোলিং কোচের পদ। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই বিসিবি বেছে নিল টেটকে, যিনি এক সময় খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)-এর হয়েও। তাঁর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত—অর্থাৎ পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেস বিভাগ তাঁর হাতেই থাকবে।
পেশাদার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ টেট
৪২ বছর বয়সী শন টেট শুধু মাঠে ভয়ঙ্কর গতির জন্যই পরিচিত নন, তিনি একজন অভিজ্ঞ কোচও। খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানেন ২০১৭ সালে। তারপর থেকেই পেশাদার কোচিংয়ে মনোনিবেশ করেন। পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। এছাড়াও ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট ও বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
বাংলাদেশে অবশ্য তিনি নতুন নন। এর আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর দল চিটাগং কিংস-এর প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে জাতীয় দলের মঞ্চে কাজে লাগানোর সুযোগ পেলেন।
দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত টেট
নতুন ভূমিকায় উত্তেজিত টেট বলেছেন,
“বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে যুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত। এটা এক নতুন যাত্রার সূচনা। এখানকার তরুণ পেসারদের মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। আমি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটে তাদের প্রস্তুত করতে চাই, যাতে তারা দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“এই দল কোনও উঠতি দলের মতো নয়। আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে এখানে। আমি চাই পেসাররা শুধু বল করে না, ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখুক।”
কোচিং টিমে বড় নাম সিমন্সও
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে বর্তমানে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন অলরাউন্ডার ফিল সিমন্স। তাঁর সঙ্গেও বিসিবির চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। সিমন্সের সঙ্গে কাজ করতে পারা টেটের কাছে বাড়তি প্রেরণা। তিনি বলেন,
“সিমন্সের মতো একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কাজ করব—এটা আমাকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।”
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
টেটের কোচিংয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নতুন দিশা পাবে বলেই আশা করছে বিসিবি। আগামী দিনগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে দু’ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শুরু হবে তাঁর বাংলাদেশ অধ্যায়। সেই সিরিজ থেকেই বোঝা যাবে, টেটের ছোঁয়ায় কতটা ধার বাড়াতে পারছে বাংলাদেশের পেসাররা।
শুধু কোচ বদল নয়, টেটের সঙ্গে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নতুন গতি ও কৌশল যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। এখন দেখার বিষয়, তাঁর অভিজ্ঞতা ও দিশানির্দেশে বিশ্বকাপে কতটা ছাপ ফেলতে পারে টাইগার বাহিনী।
বিরাট কোহলির বিদায়: এক অধ্যায়ের সমাপ্তি, রেখে গেলেন প্রশ্নের রেশ