বহাওয়ালপুর ও মুরিদকে গুঁড়িয়ে দিল ভারতীয় ‘অপারেশন সিঁদুর’
পাকিস্তানের ভেতরেই এবার উঠে এল ধ্বংসের ছবিগুলি—নির্ভুল হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জঙ্গি ঘাঁটি। পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গিহানার ১৫ দিনের মাথায় মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতের পাল্টা অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর একে একে প্রকাশ্যে আসছে সেই ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ। এবার উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ল পাকিস্তানের বহাওয়ালপুর ও মুরিদকের বিপর্যস্ত অবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ম্যাক্সার টেকনোলজিসের কৃত্রিম উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে, বহাওয়ালপুরের উপকণ্ঠে অবস্থিত জৈশ-ই-মহম্মদ (জেইএম)-এর প্রধান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মসজিদ কমপ্লেক্স—‘মারকাজ় শুভান আল্লা’ সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত। এই কমপ্লেক্সটি প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ছিল এবং ভারতের দাবি অনুযায়ী, এখান থেকেই বারংবার ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপের ছক কষা হয়েছিল।
ছবিতে স্পষ্ট, শুভান আল্লা মসজিদের তিনটি গম্বুজ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিস্ফোরণে ছাদের একাধিক অংশ ধসে গেছে, মেঝে ও দেওয়ালে দেখা গেছে বড় বড় গর্ত। চারপাশে ইট, পাথর, কংক্রিটের স্তূপ। এসবই ভারতের ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’-এর নিশানাভুক্ত এলাকাগুলোর লক্ষ্যভেদ ক্ষমতার প্রমাণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
এই হামলার আগে ও পরে তোলা উপগ্রহচিত্র তুলনা করে দেখা গেছে, মসজিদের পাশাপাশি সংলগ্ন ভবনগুলোতেও ক্ষতির চিহ্ন সুস্পষ্ট। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এগুলো শুধুই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়—এই মসজিদের আড়ালেই ছিল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অস্ত্রাগার। এই কমপ্লেক্সে থেকেই বহু জঙ্গি ভারতে অনুপ্রবেশ ও হামলার প্রশিক্ষণ পেত।
মঙ্গলবার রাত ১টা ৫ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি জায়গায় এই হামলা চালায় ভারত। এর মধ্যে ৪টি পাকিস্তানে এবং ৫টি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। বহাওয়ালপুর ছাড়াও মুরিদকে ও সিয়ালকোটে থাকা লশকর-এ-ত্যায়বার ঘাঁটিও ভারতের নিশানা হয়।
মুরিদকেতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে গেছে বলে খবর। ভারতের সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই স্ট্রাইক চালানো হয়েছে, যাতে কোনও নিরীহ নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত না হন। লক্ষ্য ছিল শুধুই জঙ্গি পরিকাঠামো।
এদিকে এই হামলার পর পাকিস্তান একদিকে দাবি করছে, এটি তাদের অসামরিক এলাকায় হামলা, অন্যদিকে তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করছে। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে এখন ভারতের পক্ষ থেকে উপগ্রহচিত্র, ভিডিয়ো ও অন্যান্য প্রমাণ পেশ করে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে—এই হামলা কোনও যুদ্ধপ্ররোচনা নয়, বরং আত্মরক্ষার একটি সতর্ক পদক্ষেপ।
এই ধরণের উপগ্রহচিত্রের মাধ্যমে কূটনৈতিক পরিসরে ভারতের বক্তব্য আরও জোরালো হচ্ছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। প্রশ্ন এখন—এই চিত্র দেখে আন্তর্জাতিক মহল কী বার্তা দেয়? পাকিস্তান কি আরও একবার নিজের তৈরি ফাঁদে নিজেই জড়িয়ে পড়ছে?
অপারেশন সিঁদুর: ভারতীয় প্রতিআক্রমণে মাসুদ আজ়হারের বোন-সহ পরিবারের ১০ জন নিহত