সীমান্তে উত্তেজনা, ‘অপারেশন সিঁদুর’
পাকিস্তানে ভারতীয় প্রতিআক্রমণের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত-পাক সীমান্ত। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামক এই সামরিক অভিযানের পরপরই সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে জরুরি বৈঠকে বসলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার গভীর রাতের ওই হামলার ঠিক পরদিনই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন ভারতের ১০টি সীমান্তবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব ও পুলিশপ্রধানরা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও ডিজি রাজীব কুমার।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মূল আলোচনার বিষয় ছিল— সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং পাকিস্তান সেনার গুলিবর্ষণ থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরে যেতে সহায়তা করা। অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সীমান্তবাসীদের নিরাপত্তাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জম্মু-কাশ্মীর, পঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাত, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীরা। সীমান্ত ভাগ করা রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, সেখানে নজরদারি ও প্রস্তুতি বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়।
পহেলগাঁওয়ে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের উপরে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাব ছিল এই ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভারতীয় সেনা মঙ্গলবার রাতভর পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গিঘাঁটিতে প্রিসিশন স্ট্রাইক চালায়। লক্ষ্য ছিল শুধু জঙ্গি ঘাঁটি, পাকিস্তান সেনার কোনও স্থাপনায় হামলা হয়নি বলে জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
তবুও পাকিস্তান এই হামলাকে রাজনৈতিক ও সামরিক আক্রমণ বলে ব্যাখ্যা করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত যা করেছে, তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। ফলে সীমান্তে যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে চাইছে ভারত সরকার।
বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের সমন্বয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বিএসএফ প্রধান দলজিৎ সিং, জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা ও মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই স্ট্রাইক ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং কেবলমাত্র সেইসব জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে, যেখান থেকে ভারতে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের পরিকল্পনা হচ্ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সহযোগিতা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আরও একবার সামনে এল এই বৈঠকে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষাই এখন ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।