সত্যজিৎ রায়ের প্রিয় খাবারের গল্প!
সত্যজিৎ রায় শুধু চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি নন, তাঁর জীবনের আরও একটি বড় দিক ছিল খাবারের প্রতি গভীর ভালোবাসা। যদিও তিনি কখনও খাদ্যরসিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, তবে তাঁর প্রিয় খাবারগুলোকে ভালোবাসতেন। তাঁর জন্মদিনে সেই খাবারগুলোর কথা স্মরণ করেছেন তাঁর পুত্র সন্দীপ রায়।
সন্দীপ রায়ের কথায়, বাবা কোনও দিন বড় আয়োজন পছন্দ করতেন না। তবে মায়ের রান্না ছিল তাঁর কাছে অমূল্য। মা প্রতিবার বাবার জন্মদিনে তাঁর পছন্দের খাবার তৈরি করতেন, যেমন লুচি, আলুর দম, মাংসের পদ, এবং পায়েস। তবে, সত্যজিৎ রায়ের আসল পছন্দ ছিল সাদা, সাধারণ বাঙালি খাবারে।
তাঁর প্রিয় ছিল সোনামুগ, অড়হড়, ছোলার ডাল। ইলিশ মাছ, পাঁঠার মাংসও তাঁর বিশেষ পছন্দের তালিকায় ছিল। দুপুরে খাবারের পর মিষ্টি দই এবং নতুন গুড়ের সন্দেশ ছিল বাবার অত্যন্ত প্রিয়। তবে, বাবার একটি মজার ব্যাপার ছিল যে, তিনি ভাতের চেয়ে রুটি বেশি পছন্দ করতেন। তিনি কখনও ভাত খেতেন, আবার কখনও রুটি খেতে ভালোবাসতেন।
খিচুড়ি, ভাতে ভাত— এসব ছিল তাঁর সাদাসিধে পছন্দ। দেরি না করে দ্রুত খাবার খেয়ে কাজের মধ্যে ফিরে যাওয়া তাঁর অভ্যাস ছিল। মেঘলা দিনে, বিশেষ করে একদিন তিনি বাড়িতে ফিরে এসে বলতেন, “কী, আজ খিচুড়ি তো?”— এই ধরনের সাধারণ আনন্দেই ছিল বাবার খাবারের প্রতি ভালোবাসা।
বাবার এই খাদ্যপ্রেম ছিল ঠিক যেন ফেলুদারও। সন্দীপ রায় জানান, ফেলুদার পছন্দের খাবারের তালিকা বাবার নিজের খাবারের তালিকাতেই মিল ছিল। “সোনার কেল্লা” এবং “গোঁসাইপুর সরগরম” গল্পে যেমন ফেলু ও জটায়ু চায়ের সঙ্গে ডালমুট খেতেন, ঠিক তেমনই বাবারও বিকেলে চায়ের সঙ্গে ডালমুট খাওয়ার অভ্যাস ছিল।
তাছাড়া, বাবার গল্পের মধ্যে ফেলু এবং তাঁর সঙ্গী জটায়ু-তোপসের খাবারের পছন্দও মিলে যায়। “জয় বাবা ফেলুনাথ” ছবিতে ক্যালকাটা লজে যখন ফেলু মাছের প্রশংসা করছিল, তখনই তাঁর পাতে ছিল ডাল, ভাত, কপির তরকারি ও মাছের ঝোল, যা বাবার পছন্দের খাবারের সঙ্গেই মেলে।
বাবা, যদিও নতুন ধরনের খাবারে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না, তবে যখন নতুন কোনো জায়গায় যেতেন, তখন সেই জায়গার পরিচিত খাবারগুলো চেখে দেখতে চেষ্টা করতেন। তবে, অপরিচিত খাবারের দিকে খুব বেশি ঝোঁক ছিল না। “যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডু” গল্পে যেমন দেখা যায়, জটায়ু মোমো অর্ডার করলেও, ফেলু এবং তোপসে নিজেদের পরিচিত খাবারই পছন্দ করেছিল।
সত্যজিৎ রায়ের খাবারের প্রতি ভালোবাসা ছিল একেবারে সাধারণ এবং অতি বাঙালি, যেগুলি তাঁকে ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করেছিল।
কাশ্মীরে টানা ৮ দিন সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন, পাঁচ জায়গায় গুলি পাক সেনার! পাল্টা জবাব দিল ভারতীয় সেনাও