যৌনতার ফাঁদে তথ্য ফাঁস: পাকিস্তানের ‘হানিট্র্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়’ চক্রান্ত

পাকিস্তানের যৌনতার ফাঁদে তথ্য ফাঁস! ভারতীয় সেনা ও প্রশাসনিক কর্তাদের টার্গেট করে পাকিস্তান গড়ে তুলেছে এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ— 'হানিট্র্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়'। যৌনতার টোপে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিতে প্রতি বছর প্রায়…

April 29, 2025
1 min read

পাকিস্তানের যৌনতার ফাঁদে তথ্য ফাঁস!

ভারতীয় সেনা ও প্রশাসনিক কর্তাদের টার্গেট করে পাকিস্তান গড়ে তুলেছে এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ— ‘হানিট্র্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়‘। যৌনতার টোপে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিতে প্রতি বছর প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকা খরচ করছে অর্থনৈতিক ভাবে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান। সম্প্রতি একাধিক তদন্তে এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে।

‘হানিট্র্যাপ’ বা ‘মধুফাঁদ’ শব্দটি প্রথম জনপ্রিয় হয় ১৯৭৪ সালে জন লে ক্যারের বিখ্যাত উপন্যাস ‘টিঙ্কার, টেলর, সোলজার, স্পাই’-এর মাধ্যমে। বাস্তবে, বিশেষ করে গোয়েন্দা দুনিয়ায়, এই কৌশল বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হচ্ছে। সুন্দরী নারী বা পুরুষের মাধ্যমে টার্গেটকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গোপন তথ্য বের করে নেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।

২০০৭ থেকে শুরু করে ২০২৩ পর্যন্ত, একাধিক ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মী এবং বৈজ্ঞানিকরা পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের মধুফাঁদের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘র’ (RAW) অফিসার থেকে শুরু করে DRDO-র শীর্ষ বিজ্ঞানী— অনেকেই এই ফাঁদে পড়েছেন। বিশেষ করে ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী প্রদীপ কুরুলকরের ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। হোয়াটসঅ্যাপে এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা তথ্য ফাঁস করেন বলে অভিযোগ।

পাক সেনার এই ‘বিশেষ প্রকল্পে’ শুধুমাত্র হানিট্র্যাপ প্রশিক্ষণের জন্য খুলে ফেলা হয়েছে এক ধরনের ‘বিশ্ববিদ্যালয়’। সেখানে স্থানীয় কলেজ থেকে বাছাই করা হয় প্রায় ৯০০ সুন্দরী তরুণীকে। তাঁদের দেওয়া হয় পাঞ্জাবি, রাজস্থানি, হিন্দি ভাষা ও ভারতীয় সংস্কৃতির বিশেষ প্রশিক্ষণ, যাতে ভারতীয় তরুণীদের মতো আচরণ করতে পারেন। পরে তাঁদের নতুন নাম— পূজা, মুসকান, হরলিন ইত্যাদি দিয়ে ভারতে প্রেরণ করা হয় বা অনলাইনে পরিচয় করানো হয়।

শিকার ধরার কৌশলও নিখুঁত— প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ব্যক্তিগত আলাপ, শেষে যৌনতা। নগ্ন ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে টার্গেটকে ব্ল্যাকমেল করা হয়। হোটেল বুকিংয়ের সময় ঘর সাজানো হয় ভারতীয় পারিবারিক পরিবেশে। যদি ভিডিও কল হয়, পেছনে রাখা হয় হিন্দু দেবদেবীর ছবি— যাতে সন্দেহ না হয়।

এই ফাঁদের শিকার হন অনেকেই, তবে আশার কথা, অধিকাংশ ভারতীয় আধিকারিকই সতর্ক থাকেন এবং পাক গোয়েন্দা সংস্থার এই চাল ব্যর্থ করে দেন। প্রতিনিয়ত ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি রাখছে।

পাকিস্তান আইএসআই-এর এমন হানিট্র্যাপ নেটওয়ার্ক এখন সীমান্ত পেরিয়ে ভার্চুয়াল জগতেও বিস্তৃত হয়েছে। ফলে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আরও সচেতন থাকা আজ সময়ের দাবি।

বিএসএফ কর্তাদের আশ্বাসেও থেমে নেই উৎকণ্ঠা, সোমবার পঞ্জাব যাচ্ছেন পূর্ণমের স্ত্রী

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *