আনন্দের সফর থেকে বিষাদের ফেরত
কাশ্মীরের পবিত্রতা, প্রকৃতির রূপ আর স্নিগ্ধ শান্তির টানে প্রতি বছরই অসংখ্য পর্যটক পাড়ি জমান উপত্যকায়। কিন্তু এই বছর সেই সফর হয়ে উঠল চরম দুঃস্বপ্ন। পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না বাংলার তিন বাসিন্দার। জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে কলকাতার বেহালা ও পাটুলি এবং পুরুলিয়ার ঝালদার তিন বাসিন্দার। কেবল রয়ে গেল অঝোর কান্না, শূন্যতা আর অভাবনীয় বেদনার স্মৃতি।
বেহালার সখেরবাজারের বাসিন্দা সমীর গুহ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ছিলেন। পরিবারসহ কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে জঙ্গি হামলার শিকার হন তিনি। স্ত্রী শবরীর চোখের সামনে স্বামীকে গুলি করে মেরে ফেলে জঙ্গিরা। তিনি জানান, ‘‘হঠাৎ কিছু লোক আমাদের ঘিরে ধরে, মুখ ঢাকা ছিল সবার। তারা আমাদের মাটিতে শুয়ে পড়তে বলে। ভয়ে সবাই শুয়ে পড়ি। তারপর ওরা বেছে বেছে সমীর ও আরও একজনকে গুলি করে।’’ সেই মুহূর্তের আতঙ্ক এখনও কাঁপিয়ে দেয় শবরীকে।
কলকাতার বৈষ্ণবঘাটা পাটুলির বিতান অধিকারী স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে নিয়ে পহেলগাঁও ঘুরতে গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কর্মরত বিতান সম্প্রতি ছুটি নিয়ে স্ত্রী সোহিনী ও তিন বছরের পুত্র হৃদানকে নিয়ে দেশে এসেছিলেন। ১৬ এপ্রিল তাঁরা জম্মু-কাশ্মীর বেড়াতে যান। কিন্তু আনন্দের সফর ঘণ্টাখানেকেই রূপ নেয় মৃত্যুমিছিলে। সোহিনীর চোখের সামনেই জঙ্গিরা গুলি চালিয়ে প্রাণ কেড়ে নেয় বিতানের। সোহিনী এখনও সেই মুহূর্ত ভুলতে পারছেন না।
তৃতীয় নিহত মণীশরঞ্জন মিশ্র, পুরুলিয়ার ঝালদার বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে থাকতেন হায়দরাবাদে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবির কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পহেলগাঁও ঘুরতে গিয়েছিলেন মণীশ। পরিকল্পনা ছিল হরিদ্বার ও অযোধ্যা ঘুরে বৈষ্ণোদেবী দর্শনের। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মৃত্যু এসে থামিয়ে দেয় সেই পরিকল্পনা। মণীশের ঝালদার পরিবার যখন বৈষ্ণোদেবীর উদ্দেশে রওনা দিচ্ছিল, ঠিক তখনই ডালটনগঞ্জে পৌঁছে তারা ফোনে জানতে পারে—মণীশ আর নেই। জঙ্গি হানায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
কাশ্মীরের মাটি আবারও সাক্ষী থাকল সন্ত্রাসের নিষ্ঠুরতায়। যারা শুধুই আনন্দের খোঁজে পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন, তাঁদের জীবনে নেমে এল নিঃসীম অন্ধকার। এই ঘটনার অভিঘাত শুধু তিনটি পরিবার নয়, সমগ্র বাংলা তথা দেশের হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দিয়েছে।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সন্ত্রাসবাদের ছায়া এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি। আরও প্রয়োজন সচেতনতা, কূটনৈতিক কৌশল এবং সর্বোপরি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেন আর কোনও শবরী, সোহিনী বা মণীশের পরিবারকে এমন যন্ত্রণা না সইতে হয়।
ক্যাস্টর অয়েল চুলের জন্য চমৎকার, তবে কীভাবে ব্যবহার করবেন? জানুন ৫ সহজ উপায়