গ্লোবসিন বিজনেস স্কুলের ২১তম সমাবর্তন !
আনন্দ, গর্ব আর আবেগের এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী রইল গ্লোবসিন বিজনেস স্কুল। সদ্য স্নাতক হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মানিত করতে আয়োজিত হল ২১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান, যেখানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও শিক্ষাজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
সম্মানের সঙ্গে সূচনা
কলকাতার তাজ বেঙ্গলের ক্রিস্টাল হলে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল এই বিশেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্ধন গ্রুপের চেয়ারম্যান চন্দ্র শেখর ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গ্লোবসিন বিজনেস স্কুলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য অলোক মুখোপাধ্যায়, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য শৈবাল চট্টোপাধ্যায় এবং গ্লোবসিন গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক আর. সি. ভট্টাচার্য।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মঞ্চে আসার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁদের সম্মান জানান। শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় সকলেই তাঁদের প্রতি শুভেচ্ছা জানান।
গর্বিত ছাত্রছাত্রীরা, এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা
২০২২-২৪ ব্যাচের ছাত্রছাত্রীরা যখন তাঁদের স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সার্টিফিকেট গ্রহণের জন্য মঞ্চে উঠছিলেন, তখন তাঁদের মুখে ছিল উচ্ছ্বাস ও আত্মবিশ্বাসের এক অপূর্ব মিশ্রণ। গাঢ় নীল স্নাতকের গাউন এবং স্যাশ পরে এই শিক্ষার্থীরা তাঁদের দুই বছরের কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেলেন।
অনুষ্ঠানে গ্লোবসিন বিজনেস স্কুলের পরিচালক ও ট্রাস্টি রাহুল দাশগুপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। এরপর প্রধান অতিথি চন্দ্র শেখর ঘোষ তরুণ প্রজন্মের ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা দেন।
মেধার স্বীকৃতি ও সম্মান
শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে কুর্নিশ জানিয়ে চন্দ্র শেখর ঘোষ ও রাহুল দাশগুপ্ত একাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে কৃতিত্বের সার্টিফিকেট তুলে দেন। এ ছাড়া, ‘বিয়ন্ড এডুকেশন’ উদ্যোগের আওতায় সমাজকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীদের ‘কল্যাণী ইয়ুথ লিডারশিপ ফোরাম (KYLF) লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি
এই বিশেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অভিষেক সিং, আইএএস। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ বার্তা দেন, যেখানে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন এবং সমাজের উন্নতির জন্য তাঁদের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়।
এছাড়া, মালয়েশিয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভোস্ট এবং ডিন, ইমেরিটাস অধ্যাপক বরজোয়াই বিন বারদাই এবং গ্লোবসিন বিজনেস স্কুলের একাধিক গভর্নিং কাউন্সিল সদস্য, একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য ও কর্পোরেট জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্নাতকদের হাতে সনদ তুলে দেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও এই অনুষ্ঠানে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এনকোর এইচআর সার্ভিসেস ইন্ডিয়ার কর্ণধার অরুণাংশু রায় (জিবিএস ব্যাচ ২০০২-০৪) এবং ডঃ রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজের কনজিউমার মার্কেটিং লিড শায়লা বোথরা (জিবিএস ব্যাচ ২০০৩-০৫)-সহ অনেকেই নতুন স্নাতকদের হাতে টুপি তুলে দেন, যা এক অনন্য প্রজন্মান্তরের সংযোগ তৈরি করে।
সমাপ্তি ও ভবিষ্যতের দিগন্ত
এই সমাবর্তন ছিল শুধুই এক আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই নতুন চাকরির জগতে পা রাখতে চলেছেন, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার পথে এগোচ্ছেন। একসঙ্গে কাটানো এই স্মৃতিময় মুহূর্তগুলি তাঁদের আগামী দিনের পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গ্লোবসিন বিজনেস স্কুল আবারও প্রমাণ করল যে, শিক্ষার গণ্ডি শুধু শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং, শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে প্রকৃত জীবনশিক্ষা অর্জনই এখানে মূল লক্ষ্য।
গর্বিত শিক্ষার্থী, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ! ২১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উজ্জ্বল মুহূর্তগুলি স্মরণীয় হয়ে থাকবে গ্লোবসিন বিজনেস স্কুলের ইতিহাসে।
ট্রাম্পের ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণার অপেক্ষায় বিশ্ব, ভারতের চিন্তা বাড়ছে!