শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতে কূটনৈতিক চিঠি (নোট ভার্বাল) পাঠিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। আপাতত দিল্লি থেকে উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র মুহাম্মদ রফিকুল আলম জানিয়েছেন, দিল্লির উত্তর পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে ঢাকা।
অপেক্ষার কৌশল
দিল্লিতে কূটনৈতিক চিঠি পাঠানোর পর বাংলাদেশ এখন ‘ধীরে চলো’ নীতিতে এগোচ্ছে। বন্দিবিনিময় চুক্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ নেই। তাই ঢাকা বুঝতে পারছে যে, এ বিষয়ে অপেক্ষা করতেই হবে। রফিকুল আলম বলেছেন, “যতটুকু সময়ে দুই দেশের সরকার মনে করবে এটি সঠিক, সেই ভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” আপাতত সময় নিয়ে জল্পনা করতে চাইছে না বাংলাদেশ। যদি দীর্ঘ সময়েও উত্তর না পাওয়া যায়, তবে পুনরায় চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ
জুলাই-অগস্ট মাসে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ৫ অগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই দিনই দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাময়িকভাবে ভারতে আশ্রয় নেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁর বিরুদ্ধে মানবতা-বিরোধী অপরাধসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাইদুর রহমানের খুনের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
হাসিনার বিরুদ্ধে বর্তমানে ২৩৩টি ফৌজদারি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮টি ক্ষেত্রে খুনের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এরই মধ্যে হাসিনা ও আরও ১৪৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান
অক্টোবর মাসে ‘ফিনান্সিয়াল টাইম্স’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি এখনই তাদের এজেন্ডায় নেই। তিনি আরও জানান, “মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা করব।”
কূটনৈতিক বার্তা ও দিল্লির অবস্থান
বাংলাদেশের পাঠানো কূটনৈতিক বার্তা দিল্লি ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, চিঠির আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখা হবে। সাধারণত, কোনও অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে অন্য দেশের রাজনৈতিক নেতার প্রত্যর্পণ চাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি দিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
ভারত সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করা হবে না। উত্তর দেওয়ার আগে সব আইনি এবং রাজনৈতিক দিক পরীক্ষা করা হবে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।
ইন্টারপোলে যোগাযোগের চিন্তা
ইউনূস প্রশাসন ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। হাসিনাকে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দুই দেশের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর নির্ভর করবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি। বাংলাদেশ আপাতত অপেক্ষা করলেও, পরবর্তীতে তারা আরও পদক্ষেপ নিতে পারে।
দুই দেশের সম্পর্ক এবং বিষয়টির আইনি জটিলতার কারণে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে। তবে ঢাকার অবস্থান এবং দিল্লির প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করবে এই প্রসঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ।