বিচারকদের ফেসবুক ব্যবহার করা উচিত নয়, জীবন হওয়া উচিত সন্ন্যাসীর মতো: সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, বিচারকদের কোনও ধরনের সমাজমাধ্যম ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষত, ফেসবুক বা অন্য কোনও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তাঁদের ব্যক্তিগত…

December 13, 2024
1 min read

সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, বিচারকদের কোনও ধরনের সমাজমাধ্যম ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষত, ফেসবুক বা অন্য কোনও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করা উচিত নয়। আদালতের মতে, বিচারকদের জীবন হতে হবে একেবারে সন্ন্যাসীদের মতো, যেখানে ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত দায়িত্ব একেবারে আলাদা থাকবে।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির অংশ হিসেবে উত্থাপিত হয়, যেখানে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দুই মহিলা বিচারপতি, বিচারপতি অদিতি শর্মা এবং বিচারপতি সরিতা চৌধরি, তাঁদের বরখাস্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে ছিলেন। তাঁরা দাবি করেছিলেন যে, হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্ত অন্যায্য। তবে, এই মামলা চলাকালীন আদালতের সামনে বিচারপতিদের ফেসবুকে পোস্ট করা একটি বিষয় উঠে আসে, যা পরে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চ আদালতে মন্তব্য করেন, “সমাজমাধ্যম একটি খোলামেলা জায়গা, যেখানে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের মাধ্যমে বিচারকদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বিচারকরা সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করবেন এবং তাঁদের কাজের প্রতি নিবেদিত থাকবেন। ফেসবুক বা অন্য কোনও সমাজমাধ্যমে বিচারকদের থাকা উচিত নয়।” এই মন্তব্যে বিচারপতিদের পেশাগত দায়িত্ব এবং সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারের মধ্যে এক মার্জিত সীমা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য অনুসারে, বিচারকদের কোনও মামলার বিষয়ে তাদের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করা কখনই উচিত নয়, কারণ এটি জনগণের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাতে পারে। বিশেষত, যখন কোনও মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তখন বিচারপতিরা যদি সমাজমাধ্যমে সেই মামলার বিষয়ে কিছু লিখে দেন, তবে সাধারণ মানুষ তাঁদের পক্ষে বা বিপক্ষে ধারণা তৈরি করতে পারে, যা বিচারপতির নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে যে আইনজীবী মামলাটি লড়ছিলেন, তিনি এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত হন। তিনি জানান, “বিচারকদের সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করা উচিত নয়। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অনেকটাই সংযত হতে হবে, যাতে তাদের কাজের উপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।”

এই মামলার সূত্রে, গত বছর ২০২৩ সালের নভেম্বরে, মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট ছয়জন মহিলা সিভিল বিচারককে বরখাস্ত করেছিল। তাঁদের কাজের মানের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে, চলতি বছরের ১ আগস্ট, চারজন বিচারককে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু দু’জন বিচারককে আর ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি। এই দুই বিচারপতি আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন।

এদিকে, এক বিচারপতি অদিতি শর্মা, যিনি হাই কোর্টে বরখাস্ত হয়েছিলেন, তিনি আদালতে বলেন, ২০১৯-২০ সালের পর তাঁর কাজের মান কিছুটা কমে গিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২১ সালে তাঁর গর্ভপাত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর ভাইয়ের ক্যানসার ধরা পড়ে, যা তাঁর কাজের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল। আদালত এখন তাঁদের আবেদন নিয়ে শুনানি করছে এবং শীঘ্রই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, সুপ্রিম কোর্ট এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখেছে, যেখানে বিচারকদের পেশাগত দায়িত্বে ফেসবুক বা অন্য কোনও সমাজমাধ্যমের ব্যবহারকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। বিচারপতিদের যে জীবনব্যবস্থা হতে হবে সন্ন্যাসীর মতো, তা তাঁদের কাজের প্রতি একগুঁয়ে মনোভাব এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *