কোচবিহারে রেল অবরোধ
আট বছর পর, কোচবিহারে আবার শুরু হয়েছে রেল অবরোধ। আলাদা রাজ্যের স্বীকৃতির দাবিতে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন (জিসিপিএ) ও কোচবিহার স্টেট ডিমান্ড কমিটির (কেএসডিসি) নেতৃত্বে এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া এই অবরোধে উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল পরিষেবা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বাতিল হয়েছে বেশ কিছু ট্রেন, অন্যদিকে যাত্রাপথ পরিবর্তন করা হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের।
আন্দোলনের সূচনা এবং প্রেক্ষাপট
জিসিপিএ এবং কেএসডিসি-র কর্মীরা প্রথমে কোচবিহার জেলাশাসকের দফতরে বিক্ষোভ দেখান। এরপর ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘রেল রোকো’ আন্দোলন। অসম-বাংলা সীমানায় অবস্থিত জোড়াই রেলস্টেশনকে এই অবরোধের কেন্দ্রস্থল হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। ভোর হতে না হতেই শতাধিক কর্মী-সমর্থক রেললাইনে বসে পড়েন। হাতে ফেস্টুন ও পোস্টার নিয়ে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনের শীর্ষ নেতা বংশীবদন বর্মণের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। তবে এর আগেও, ২০১৬ সালে একই দাবিতে নিউ কোচবিহার স্টেশনে রেল অবরোধ করা হয়েছিল। প্রায় ৮০ ঘণ্টার সেই অবরোধ পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পরিবহন পরিষেবায় বিঘ্ন
রেল অবরোধের কারণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রেল। বাতিল হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে নিউ জলপাইগুড়ি-গৌহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং বঙ্গাইগাঁও-নিউ জলপাইগুড়ি এক্সপ্রেস। ডিব্রুগড়-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস, আনন্দবিহার অরুণাচল এক্সপ্রেস, নয়াদিল্লি এক্সপ্রেস, এবং কামাখ্যা-রাজেন্দ্রনগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ পরিবর্তন করা হয়েছে।
যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকেই নির্ধারিত ট্রেন বাতিল হওয়ার ফলে স্টেশনে এসে সমস্যায় পড়ছেন। নিউ কোচবিহার স্টেশন থেকে বাসের মাধ্যমে যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা করে গন্তব্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের উদ্দেশ্য এবং প্রভাব
গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন দাবি করছে, কোচবিহারকে আলাদা রাজ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলের জনগণের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাঁদের মতে, কোচবিহার দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার। তবে আন্দোলনের এই পদ্ধতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যাত্রীদের একাংশ এই ধরনের আন্দোলনের জন্য রেল পরিষেবার বিঘ্নকে সমর্থন করছেন না।
পুনরাবৃত্তি এবং ভবিষ্যৎ
আট বছর আগে, নিউ কোচবিহার স্টেশনে অনুরূপ এক অবরোধ হয়েছিল। তবে পুলিশি হস্তক্ষেপে দ্রুত তা সমাপ্ত হয়। এবারের পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি যতক্ষণ না পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা এই অবরোধ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
এ ধরনের আন্দোলন রেল পরিষেবায় শুধু বিঘ্ন ঘটাচ্ছে না, বরং সাধারণ যাত্রীদের জীবনকেও বিপর্যস্ত করছে। রেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের তরফ থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে আলাদা রাজ্যের দাবিতে জিসিপিএ-র এই পদক্ষেপ আদৌ কতটা কার্যকরী হবে, তা সময়ই বলবে।