দুই নারীর বন্ধুতায় ভরল উৎসব: ‘দ্য শেমলেস’ ছবির এক বিশেষ মুহূর্ত

দুই নারীর বন্ধুতায় ভরল উৎসব কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রবিবার এক বিশেষ ছবি দেখানো হয়, যার নাম ‘দ্য শেমলেস’। বুলগেরিয়ার পরিচালক কনস্তান্তিন বোজ়ানভের এই ছবি ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। ছবির…

December 9, 2024
1 min read

দুই নারীর বন্ধুতায় ভরল উৎসব

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রবিবার এক বিশেষ ছবি দেখানো হয়, যার নাম ‘দ্য শেমলেস’। বুলগেরিয়ার পরিচালক কনস্তান্তিন বোজ়ানভের এই ছবি ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। ছবির দুই মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী অনুসূয়া সেনগুপ্ত ও অভিনেত্রী ওমারা শেট্টি। কলকাতার দর্শকদের সামনে এই ছবির প্রদর্শনী ছিল এক স্মরণীয় মুহূর্ত।

অনসূয়া সেনগুপ্ত, যিনি কানের চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর খেতাব অর্জন করেছিলেন, কলকাতার নন্দন চত্বরে তাঁর ছবির প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হয়ে বললেন, ‘‘আমার শহরে, নন্দনের পর্দায় আমাকে লিড চরিত্রে রেখে সিনেমায় নিজেকে দেখছি! কানের থেকে এ অভিজ্ঞতাও কম নয়! জীবনের একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।’’ তাঁর সহকর্মী, ‘দ্য শেমলেস’-এর অপর মুখ্য চরিত্রের অভিনেত্রী ওমারা শেট্টি, যিনি প্রথমবার কলকাতায় এসেছিলেন, অতি আনন্দিত হয়ে বললেন, ‘‘ছবি দেখার লম্বা লাইন, দর্শকদের ভালবাসায় নিজেকেও কলকাতার মেয়ে বলেই মনে হচ্ছে।’’

‘দ্য শেমলেস’ ছবিটি সমাজের নানা বাধা অতিক্রম করে নারীদের জীবনের স্বাধীনতা ও প্রেমের গল্প বলছে। ছবির দুই প্রধান চরিত্র রেণু (অনসূয়া) ও দেবিকা (ওমারা) একে অপরের বিপরীত। রেণু একটি সাহসী, শক্তিশালী এবং নির্ভীক চরিত্র, যিনি পেশায় যৌনকর্মী। অন্যদিকে, দেবিকা একটি শান্ত, ভিতু চরিত্র, যাঁর পরিবারে অনেক প্রজন্ম ধরে যৌন পেশা চলে আসছে। তবে তাদের বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসা তাদের একে অপরের জীবনে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

ছবির নির্মাতা কনস্তান্তিন বোজ়ানভ জানান, ‘‘এই ছবিতে সমাজের অত্যাচার, ধর্মীয় শোষণ এবং পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে নারীর লড়াইকে তুলে ধরা হয়েছে।’’ ছবির গল্পে নারীরা যে সমস্ত অস্বস্তি ও শর্তের মধ্যে দিয়ে যায়, তা নির্ধারণ করে দেয় তাদের স্বাধীনতা অর্জনের পথ। ছবিটি দেখে দুই অভিনেত্রী এবং পরিচালকের মধ্যে এক নতুন বন্ধুত্বের সূচনা হয়, যা তাদের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে থাকে। কনস্তান্তিনের সম্পর্কে অনসূয়া ও ওমারা দুজনেই বলেছেন, ‘‘তিনি আমাদের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর সমর্থন ছিল, এবং আমাদের একে অপরের সঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়েছিলেন।’’

কলকাতার দর্শকদের কাছে ছবিটি ছিল এক বড় সাফল্য। কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের শো-টির পর, অনসূয়া ও ওমারা অভিভূত হয়ে বলেন, ‘‘আমাদের ছবি এত ভালোবাসা পেল, এটা আমাদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।’’

ফরাসি ও সুইস নির্মাতাদের সঙ্গে ছবির অন্যতম প্রযোজক মোহন নাডার জানিয়েছেন, ছবিটি এখন সেন্সর বোর্ডে পাঠানো হবে এবং তারপরেই সাধারণ দর্শকরা এটি দেখতে পাবেন। ছবিটির কানে সাফল্যের পর কলকাতার দর্শকদের সঙ্গেও এর বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

এই ছবির মাধ্যমে অনুসূয়া ও ওমারা শুধু তাঁদের অভিনয়ের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন, বরং সামাজিক বিষয়গুলির প্রতি গভীর সচেতনতা ও সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করেছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরা জরুরি, এবং ‘দ্য শেমলেস’ এর মাধ্যমে তাঁরা তা করতে পেরেছেন।

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এই এক বিশেষ মুহূর্ত, যেখানে দুটি শক্তিশালী নারী চরিত্র এবং তাদের বন্ধুত্বের গল্প এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *