যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই
২০১৫ সালে এসএসকেএম হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে একটি বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বিধায়ক তথা চিকিৎসক নেতা নির্মল মাজির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই ঘটনায় একটি কুকুরের ডায়ালিসিস করানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি, যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিধাননগরের সাংসদ-বিধায়ক বিশেষ আদালত শুক্রবার সেই মামলায় নির্মলকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে। মামলাকারী চিকিৎসক কুণাল সাহা জানিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে আপিল করবেন।
২০১৫ সালের জুন মাসে এসএসকেএম হাসপাতালে নির্মল মাজি তার এক আত্মীয়ের কুকুরের ডায়ালিসিস করানোর জন্য ব্যবস্থা করতে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। হাসপাতালের তৎকালীন অধিকর্তা এবং বিভাগের প্রধান চিকিৎসকের অনুমতিও মিলেছিল বলে জানানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত, অন্যান্য চিকিৎসকদের তৎপরতায় ওই ঘটনা আটকানো সম্ভব হয়েছিল। বিষয়টি তখন মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (এমসিআই)-র নীতি নির্ধারণ কমিটির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৯ সালে, এমসিআই ওই কমিটি নির্মল এবং অন্য দু’জনের ভূমিকার জন্য তাদের সতর্ক করে। এরপরই কুণাল সাহা আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন।
এই মামলার রায় শুক্রবার বিধাননগরের আদালতে ঘোষিত হয়। নির্মলের আইনজীবী সোমা দাস জানিয়েছেন, মামলাকারী কুণাল সাহা প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট তথ্যপূর্বক সপষ্ট উপাদান আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি। এর ফলে বিচারক ঈশান মজুমদার মামলাটি খারিজ করে নির্মলকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তবে কুণাল সাহা দাবি করেছেন যে, নির্মল তাকে সামাজিকভাবে অপমানিত করতে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। সে কারণেই তিনি এই মানহানির মামলা করেছিলেন।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর নির্মল মাজি আদালতের বাইরে বলেন, “আমাকে হেনস্থা করতে ওই চিকিৎসক একাধিক মামলা করেছিলেন। আজ দু’টি মামলাই খারিজ হয়েছে।” নির্মল আরও বলেন, “এটা ছিল একটি ষড়যন্ত্র, কিন্তু আদালত সঠিক বিচার করেছে।”
এদিকে, কুণাল সাহা জানিয়েছেন, তিনি এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করতে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করবেন। তিনি জানান, এটি শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত সম্মান রক্ষার জন্য নয়, বরং পুরো চিকিৎসক সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ যাতে আর না আনা হয়।
নির্মল মাজির বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি একটি বড় সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। কুকুরের ডায়ালিসিস করানোর মতো একটি ঘটনা মেডিক্যাল কমিউনিটিতে আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। তবে আদালতের রায়ের পর নির্মল মাজির বিরুদ্ধে সব অভিযোগ খারিজ হয়ে যাওয়ায় একদিক থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিতর্কের অবসান ঘটল।
এখন দেখার বিষয়, কুণাল সাহা হাই কোর্টে কী পদক্ষেপ নেন এবং এই মামলার পরিণতি কোথায় পৌঁছায়।