খিদিরপুর রোডে বেপরোয়া গাড়ি দুর্ঘটনা
বুধবার দুপুরে কলকাতার খিদিরপুর রোডে ঘটে গেল এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনা। এক বেপরোয়া গাড়ি দ্রুত গতিতে চলার সময় একে একে রাস্তার বিভাজক, বিদ্যুতের বাক্স এবং বাতিস্তম্ভে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। এর ফলে গাড়িটির সামনের অংশ সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং উইন্ডস্ক্রিন ভেঙে যায়। পাশাপাশি গাড়ির এয়ারব্যাগও খুলে যায়।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছিয়ে গাড়ি থেকে চালকসহ তিনজনকে উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে গাড়ির চালক সৌরভ মণ্ডল এবং তার দুই যাত্রী সঞ্চিতা বাগারিয়া ও তার শাশুড়ি সরলাদেবী বাগারিয়া ছিলেন। তবে, সকলেরই আঘাত গুরুতর ছিল না এবং চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাড়িটি সৌরভ মণ্ডল চালাচ্ছিলেন, যিনি একটি গাড়ি ভাড়ায় দেওয়ার সংস্থার সাথে যুক্ত। গাড়ির মালিক মণীশ বাগারিয়া জানান, তিনি তার স্ত্রী ও মাকে জরুরি কাজে নিয়ে বেরিয়েছিলেন এবং সৌরভ তাদের গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ই এম বাইপাস হয়ে মা উড়ালপুল ধরে তারা এসএসকেএম হাসপাতালের গেটের কাছে পৌঁছানোর পর খিদিরপুর রোডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। যাত্রীরা জানিয়েছেন, শুরু থেকেই গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চালানো হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটি দ্রুত গতিতে চলতে চলতে প্রথমে রাস্তার ডান দিকের বিভাজকটিতে ধাক্কা মারে, এরপর সেটি বিদ্যুতের বাক্সটিকে উপড়ে ফেলে বাতিস্তম্ভে আঘাত করে এবং উল্টে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “গাড়িটি এত দ্রুত চলছিল যে, উল্টে যাওয়ার পরেও কিছুটা হিঁচড়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।” এই ঘটনায় খিদিরপুর রোডের একাংশে যানজট সৃষ্টি হয় এবং রেড রোডে গাড়ির গতি শ্লথ হয়ে যায়। পুলিশ গাড়িটি সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সৌরভ মণ্ডল সম্প্রতি চালক হিসেবে ওই সংস্থায় নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। এ ঘটনায় তার অসাবধানতা বা অন্য কোনো কারণের জন্য দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চালক সৌরভের দাবি, গাড়ির এয়ারব্যাগ খুলে যাওয়ার কারণে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তার দাবি তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সৌরভ মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। যদিও, তার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে, সেটা হল বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব শহরের যান চলাচলে ভয়াবহ আকারে পড়ছে। তাই, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।