উগান্ডায় বন্দি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবেরের কন্যা: কে বসুন্ধরা?

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবেরের কন্যা বসুন্ধরা পূর্ব আফ্রিকার উগান্ডায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্দি রয়েছেন সুইৎজ়ারল্যান্ডের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের পঙ্কজ অসওয়ালের কন্যা বসুন্ধরা অসওয়াল। তিনি কী কারণে আটক হয়েছেন, তা নিয়ে…

October 27, 2024
1 min read

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবেরের কন্যা বসুন্ধরা

পূর্ব আফ্রিকার উগান্ডায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্দি রয়েছেন সুইৎজ়ারল্যান্ডের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের পঙ্কজ অসওয়ালের কন্যা বসুন্ধরা অসওয়াল। তিনি কী কারণে আটক হয়েছেন, তা নিয়ে এখন বেশ আলোচনা চলছে।

উগান্ডার পুলিশ বসুন্ধরাকে আটক করেছে অসওয়াল পরিবারের কর্মচারী মুকেশ মেনারিয়ার অপহরণ এবং হত্যার অভিযোগের ভিত্তিতে। মুকেশ পরিবারটির জন্য কাজ করতেন এবং তাঁর উপর ছিল অসওয়াল পরিবারের বিভিন্ন সম্পত্তির দায়িত্ব। তাঁর অদ্ভুত নিখোঁজ হওয়ার পর বসুন্ধরার দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। পরিবারের দাবি, মুকেশ জীবিত এবং বর্তমানে তানজানিয়ায় রয়েছেন।

বসুন্ধরার জন্ম ১৯৯৯ সালে, এবং তিনি সুইৎজ়ারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিনান্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ‘অসওয়াল গ্রুপ গ্লোবাল’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যেখানে তিনি বিভিন্ন বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, আর্থিক তদারকি এবং সরকারি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি, বসুন্ধরা একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড ক্যাপচারিং প্ল্যান্ট তৈরি করেছেন এবং পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোর জন্য পুনর্ব্যবহৃত জল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছেন।

অসওয়াল পরিবারটি বিলাসবহুল জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত। তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। সম্প্রতি, তাঁরা সুইৎজ়ারল্যান্ডে একটি বিশ্ববিখ্যাত এস্টেট ‘ভিলা হারি’ প্রায় ১,৬৪৯ কোটি টাকায় কিনেছেন। এই সমস্ত সম্পদের প্রেক্ষাপটে বসুন্ধরার বন্দিত্ব এক প্রকার কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।

বসুন্ধরা

গত ১ অক্টোবর, বসুন্ধরাকে তাঁদের পরিবারের একটি মদের কারখানা থেকে আটক করা হয়। উগান্ডার পুলিশের দাবি, তিনি ফৌজদারি এবং বাণিজ্যিক অপরাধের মামলায় আটক হয়েছেন। তবে অসওয়াল পরিবারের দাবি, তাঁকে ‘অবৈধভাবে’ আটক করা হয়েছে এবং এটি একটি ‘কর্পোরেট এবং রাজনৈতিক চক্রান্ত’।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, যে মুকেশকে খুনের অভিযোগে বসুন্ধরাকে আটক করা হয়েছে, তিনি বর্তমানে জীবিত। উগান্ডা কর্তৃপক্ষ তাঁর মুক্তি দিতে অস্বীকার করেছে, তবে পরিবারের দাবি, তিনি নিখোঁজ।

বসুন্ধরাকে আটকের পর পুলিশ তাঁর ফোন কেড়ে নিয়েছে এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেয়নি বলে অভিযোগ। তাঁকে জেলে খারাপ খাবার দেওয়া হচ্ছে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে অসওয়াল পরিবার। এমনকি, জেলে বসুন্ধরাকে নিরামিষ খাবার খেতে দেওয়া হচ্ছে না এবং নোটিস ছাড়াই এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।

অসওয়াল পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বসুন্ধরাকে ৯০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এক ঘরে আটকে রাখা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ দিন ধরে স্নান বা পোশাক পরিবর্তন করতে দেওয়া হয়নি। এসব কারণে, পঙ্কজ ও রাধিকা অসওয়াল ইতিমধ্যেই একটি আবেদন দাখিল করেছেন ‘ইউনাইটেড নেশনস ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন’-এ, যেখানে তাঁদের কন্যার আটককে অবিলম্বে খতিয়ে দেখার দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বসুন্ধরার বন্দিত্ব যেন এক কর্পোরেট যুদ্ধের শিকার হয়ে উঠেছে। এমনকি, তাঁর আইনজীবী এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না পাওয়ায় বিষয়টি আরো জটিল হয়ে উঠছে। তবে সকলেই আশাবাদী, শীঘ্রই এই পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে এবং বসুন্ধরা মুক্তি পাবেন।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *