চিকিৎসকদের নিয়ে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী!
সরকারি চিকিৎসকদের সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা কাজ করতে হবে— এমন কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। চিকিৎসক মহলে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি কাটাতে সোমবার নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, অতিরিক্ত কাজের নির্দেশ নয়, বরং চিকিৎসকদের সপ্তাহে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা তাঁদের ডিউটি স্টেশন বা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
রবিবার অস্থি চিকিৎসকদের একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে শারদ্বত বলেছিলেন, ‘‘শিক্ষক-চিকিৎসকদের সপ্তাহে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা সেন্টারে থাকতে হবে।’’ এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই চিকিৎসক মহলের একাংশে প্রশ্ন ওঠে, তবে কি সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা কাজ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয় জোর আলোচনা।
এর পর সোমবার সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা কাজ করার কথা তিনি বলেননি। তাঁর বক্তব্যের অর্থ ছিল, চিকিৎসকেরা যেন সপ্তাহে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা নিজেদের কর্মস্থলে অবস্থান করেন, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে রোগীদের পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক সরকারি চিকিৎসকের কর্মস্থল তাঁদের স্থায়ী বাসস্থান থেকে অনেক দূরে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ কয়েক দিনের ডিউটি শেষ করেই নিজের শহরে ফিরে যান। আবার সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগও রয়েছে কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা আরও কার্যকর করতেই কর্মস্থলে বেশি সময় থাকার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী।
রবিবারের অনুষ্ঠানে শারদ্বত সরকারি চিকিৎসকদের উদ্দেশে আরও বলেন, সরকার জনগণের চিকিৎসা পরিষেবার জন্যই তাঁদের বেতন দেয়। তাই দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর এই মন্তব্য থেকেই ৯৬ ঘণ্টা কাজ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হয়।
সোমবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এটি কোনও নতুন সরকারি নিয়ম নয় এবং চিকিৎসকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করার নির্দেশও নয়। তিনি শুধু কর্মস্থলে পর্যাপ্ত সময় উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তাঁর বক্তব্য নিয়ে কারও কোনও সংশয় থাকলে সরাসরি যোগাযোগ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ব্যাখ্যার পর চিকিৎসক মহলের একাংশের বিভ্রান্তি অনেকটাই দূর হয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও পরিষেবার মান উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা এখনও জারি রয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?