ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ়ে ব্যাটারদের দাপট!
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ব্যাটারদের দাপটে কার্যত কোণঠাসা বোলারেরা। গত ১০ দিনে দুই দলের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে একের পর এক নজির তৈরি হয়েছে। ৯১৮টি বলের মধ্যে এসেছে ৯৮টি ছক্কা। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ৯.৩ বল অন্তর একটি করে বল উড়ে গিয়েছে সীমানার বাইরে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ে ছক্কা মারার এমন হার আগে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ব্যাটারদের সামনে অসহায় বোলারেরা
সিরিজ়ের প্রতিটি ম্যাচেই ব্যাটারদের দাপট চোখে পড়েছে। পিচগুলিতে বোলারদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকছে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে রান আটকানো তো দূরের কথা, উইকেট নেওয়ার জন্যও বোলারদের যথেষ্ট লড়াই করতে হচ্ছে। ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীরও সম্প্রতি পিচের এই চরিত্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তবে তার পরেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।
দুই দলের বোলারদের মধ্যে রস্টন চেজ়ই একমাত্র বোলার, যিনি সিরিজ়ে অন্তত ১০ ওভার বল করেছেন। তা সত্ত্বেও তাঁর ইকনমি রেট প্রায় ১০। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, ব্যাটারদের আক্রমণের সামনে বোলারদের কতটা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ছক্কার বন্যায় ভাঙতে পারে আরও একটি রেকর্ড
পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজ়ে ইতিমধ্যেই ৯৮টি ছক্কা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি ছক্কার নজির রয়েছে আরও তিনটি পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে। ২০২৩ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ে মোট ১২০টি ছক্কা হয়েছিল। শেষ ম্যাচে দুই দল মিলে আরও ২৩টি ছক্কা মারতে পারলে সেই রেকর্ডও ভেঙে যাবে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কা মারার ক্ষেত্রেও ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের আগ্রাসী মানসিকতা স্পষ্ট। চার ম্যাচের পর দুই দলই এই ফরম্যাটে ২০০০-এর বেশি ছক্কা মারার নজির গড়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারেরা টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে গড়ে প্রতি ১৪ বল অন্তর একটি ছক্কা মেরেছেন। ভারতীয় ব্যাটারদের ক্ষেত্রে ব্যবধান ১৬.১৯ বল।
চার-ছক্কায় এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়
চার ম্যাচের পরিসংখ্যানে চার ও ছক্কা মারার ক্ষেত্রেও ক্যারিবিয়ান ব্যাটারেরা এগিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ঝুলিতে রয়েছে ১২৪টি চার ও ৫৭টি ছক্কা। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ৮.১ বল অন্তর একটি ছক্কা এসেছে। অন্য দিকে, ভারতীয় ব্যাটারেরা মেরেছেন ৪১টি ছক্কা, গড়ে প্রতি ১০.৮ বল অন্তর একটি।
সব মিলিয়ে, এই সিরিজ়ে ব্যাটারদের আগ্রাসন যেমন দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে, তেমনই বোলারদের দুর্বলতাও সামনে এনেছে। শেষ ম্যাচে ছক্কার সংখ্যা আরও বাড়ে কি না, সেই দিকেই এখন নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।