৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া!
শনিবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপ। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৭। মূল ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায়। কম্পনের জেরে বেশ কিছু বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থা এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে প্রথম শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। আমেরিকার জিয়োলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎস ছিল পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে কম্পনের উৎপত্তি হয়েছিল।
কম্পনের তীব্রতা এবং সমুদ্রের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপদার্থবিদ্যা সংস্থা বিস্তীর্ণ এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে। পূর্ব ও পশ্চিম নুসা টেঙ্গারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি এবং দক্ষিণ-পূর্ব সুলাওয়েসির উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত সমুদ্রতীর থেকে সরে গিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কয়েক ঘণ্টা পর অবশ্য সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে উপকূলীয় এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হয়।
আতঙ্কে রাস্তায় বাসিন্দারা
ভূমিকম্পের কম্পন ফ্লোরেস দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। ঘরবাড়ি কাঁপতে শুরু করতেই বহু বাসিন্দা এবং পর্যটক নিরাপদ জায়গার খোঁজে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। কোথাও কোথাও বাড়িঘর ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, পেলনি বন্দর টার্মিনালের একটি ওয়েটিং রুম তাঁর চোখের সামনেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। একের পর এক আফটারশক পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তোলে।
কেন এত ভূমিকম্প হয় ইন্দোনেশিয়ায়?
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আগ্নেয়গিরি বলয়’-এর মধ্যে অবস্থিত। প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশে তাই নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
ফ্লোরেস দ্বীপ এর আগেও ভয়াবহ ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ফ্লোরেসের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এবং ২,৫০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
শনিবারের ভূমিকম্পের মাত্রা সেই ঘটনার তুলনায় বেশি হলেও, প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধার ও পরিস্থিতি মোকাবিলার কাজ চলছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।